সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষে আহত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মনসুর মেম্বারের বাড়িতে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমবেদনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এিমন পরিস্থিতিতে শনিবার আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন আসলাম চৌধুরী। তিনি একে একে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন, শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান।
আসলাম চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা হিংস্র পথ বেছে নেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।
শুধু বাঁশবাড়িয়াতেই নয়, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজ নেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। কুমিরা ইউনিয়নে ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আহত নেতাকর্মী ও নারী কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাঁদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
বিভিন্ন ইউনিয়নে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেন আসলাম চৌধুরী। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে সাংগঠনিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আহতদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সরাসরি তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহস ও সাংগঠনিক আস্থা বেড়েছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মনসুর মেম্বারের বাড়িতে আয়োজিত সমবেদনা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সালাম সালামত উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস মেম্বারসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
১ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষের পর সীতাকুণ্ড বিএনপির তৃণমূলে যে উদ্বেগ ও বিভাজনের প্রশ্ন সামনে এসেছে, তার মধ্যে আহত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসলাম চৌধুরীর এই কর্মসূচি দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা ফেরানোর রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে। এখন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আহতদের সুচিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা ঠেকাতে দলীয় ও আইনগতভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সীতাকুণ্ড বিএনপির তৃণমূলের।