জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী আশরাফ উদ্দিন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামায় তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।

হাজী আশরাফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহযোগিতা করা এবং সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে নিজের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। দীর্ঘদিন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি এবং মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহও মূলত মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মানুষ যদি আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”

তিনি বলেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোও জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এসব বিষয়কে সামনে রেখে তিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখনো সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাজী আশরাফ উদ্দিন।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তার রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। তিনি মনে করেন, একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়। এজন্য কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাজী আশরাফ উদ্দিন আরও বলেন, জনপ্রতিনিধির মূল শক্তি জনগণ। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কথা সরাসরি শুনতে চাই। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আগ্রহও দেখা যাচ্ছে। সমর্থকদের দাবি, রাজনীতির বাইরে থেকে একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে হাজী আশরাফ উদ্দিনের প্রার্থিতা মোগরাপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলতে পারে।

তবে সচেতন ভোটারদের ভাষ্য, নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তার সততা, যোগ্যতা, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা চান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয় এবং প্রার্থীরা বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি শাসক হতে চাই না, মানুষের সেবক হতে চাই। চেয়ারম্যানের চেয়ার আমার কাছে ক্ষমতার প্রতীক নয়, এটি দায়িত্বের জায়গা। জনগণ আমাকে যোগ্য মনে করলে তাদের ভালোবাসা ও ভোট নিয়ে দায়িত্ব পালন করব। আর যদি জনগণ অন্য কাউকে বেছে নেন, সেই সিদ্ধান্তকেও সম্মান করব।

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে হাজী আশরাফ উদ্দিনের এই প্রার্থিতা এখন স্থানীয় নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকের প্রার্থী হওয়া স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে