বরিশালের মুলাদীতে সফিপুরের হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতিসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আ স ম সাহাদাত হোসাইন ও গভর্নিং বডির সভাপতি মো. বশির আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বরিশালের মুলাদী সিভিল জজ আদালতে মামলাটির শুনানি শেষে এ নোটিশ দেওয়া হয় বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন। আদালতের সিভিল জজ মো. ওমর ফারুক বিবাদীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ৩০ আগস্ট আদালতে মামলা করেন খান শ্রেম পাঠান শাহ। এতে কলেজের অধ্যক্ষ আ স ম সাহাদাত হোসাইন, গভর্নিং বডির সভাপতি মো. বশির আহমেদসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিষ্ট্রার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালক, বরিশাল জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার বাদী খান শ্রেম পাঠান শাহ হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। মামলার নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলা বিষয়ে প্রভাষক পদে কলেজটিতে যোগ দেন এবং ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হন। বাদীর দাবি, ২০২২ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, কলেজের কৃষিশিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক মো. কামাল হোসেন ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং ২০১৫ সালের ১ জুলাই এমপিওভুক্ত হন।যোগদান ও এমপিওভুক্তির তারিখসহ চাকরির বিভিন্ন দিক বিবেচনায় খান শ্রেম পাঠান শাহ জ্যেষ্ঠ হলেও তাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ শিক্ষক মো. কামাল হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করার কথা। কিন্তু হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজে পদোন্নতির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করে মো. কামাল হোসেনকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, বাদী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদী। পরে গত ৪ আগস্ট অধ্যক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী এইচ এম আশরাফুল আলম বলেন, 'বাদী ২০২২ সালে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করলেও তাকে পদোন্নতি না দিয়ে পরবর্তী সময়ে যোগদান করা শিক্ষককে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি আইন ও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।'
এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ আ স ম সাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, 'শুধু যোগদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ হলেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী সনদপত্রসহ বিভিন্ন দক্ষতা মূল্যায়ন করে সুপারিশ পাঠাতে হয়। নিয়ম মেনেই গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষিশিক্ষা বিষয়ের প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আদালতে যথাসময়ে জবাব দেওয়া হবে।'