বছরে ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ

সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে বেশি দরে কার্যাদেশ

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে বেশি দরে কার্যাদেশ

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের পথ্য ও স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বছরে সরকারের প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে দাবি করেছেন দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা এক সরবরাহকারী।

অভিযোগকারী সরবরাহকারী মো, আলতাফ হোসেন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরেও লিখিত অভিযোগ করেছেন। । 

অভিযোগে মো, আলতাফ হোসেনের দাবি, গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দরপত্রে তিনি পথ্য ও স্টেশনারি—দুই গ্রুপেই সর্বনিম্ন দরদাতা হন। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পে-অর্ডারসহ দরপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং তাঁর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দর দেওয়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে  সরবরাহকারী  মো, আলতাফ হোসেন জানান, পথ্য সরবরাহের জন্য তাঁর দেওয়া মোট দর ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ একই কাজের জন্য তাঁর চেয়ে ৩২ লাখ টাকা বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

শুধু পথ্য নয়, স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ গ্রুপে তাঁর দর ছিল ১২ লাখ টাকা। বিপরীতে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও ৬ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

দুই গ্রুপ মিলিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার পরিবর্তে বেশি দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারের বছরে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, পথ্য সরবরাহের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং স্টেশনারি সামগ্রীর জন্য ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার দিয়ে তিনি বিধি অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নেন। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও কার্যাদেশ না পাওয়ায় তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ আট থেকে নয় বছর ধরে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পথ্য ও বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। তাঁর সরবরাহ করা পণ্য নিম্নমানের হওয়া, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ওঠেনি।

এ ছাড়া পটুয়াখালী কোস্টগার্ড, এতিমখানা, পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মালামাল সরবরাহের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। পটুয়াখালী জেলা কারাগারেও প্রায় ৪০ বছর ধরে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন বলে দাবি করেছেন এই সরবরাহকারী।

তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকা এবং কোনো অভিযোগ না থাকার পরও সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তাঁকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এর কারণও তাঁকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ অবস্থায় পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী তাঁকে কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন ওই সরবরাহকারী।

তবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কেন কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, বেশি দরে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কী প্রক্রিয়ায় কাজ দেওয়া হয়েছে এবং এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলরুবা ইয়াসমিন  লিজা  ছুটিতে থাকায় একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।  তবে তার দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজপর সহকারী পরিচালক ডাঃ কবির হাসান বলেন,  অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তত্ত্বাবধায়ক ভালো বলতে পারবেন।  আমি এ বিষয়ে অবগত নেই।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড, মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সকল সরকারি দপ্তর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী সব ধরনের ক্রয় কাযক্রম সম্পন্ন করবে, পাবলিক মানি ব্যয় করার ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি নীতিকে অগ্রাধিকার দেবে এটিই কাম্য। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে উর্ধতন অথরিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ যেন করে, সেটিই প্রত্যাশা থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে