জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ১ লাখ ২০ হাজার সক্ষম দম্পতিসহ শিশু- কিশোর- কিশোরি ও সাধারণ মানুষ স্বান্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কার্যত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম ভেঁঙে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধিনে ৮ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। অবশিষ্ঠ ৭ টি কল্যাণ কেন্দ্র স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। জনবল সংকট, ওষুধ সংকট ও অবকাঠামোর অভাবে ১৫ টি ইউনিয়ানেই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রগুলো কার্যত বন্ধ। সংশিষ্ঠ অফিস সূত্রে জানা যায় ১৫ জন হেলথ্ ভিজিটরের স্থলে রয়েছে মাত্র ৬ জন। তারা রোটেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দেখভাল করছেন । ফার্মাসিস্ট এর ৬ টি পদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১ জন। সহকারি মেডিকেল অফিসারের ৬ টি পদের সব গুলোই শূন্য । ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সহকারির ৯৭ পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ৫৬ জন। মেডিকেল অফিসারের ২ টি পদই শূন্য। ফলে গর্ভবতি মা, শিশু ও সাধারণ রোগিরা ন্যূনতম সেবা টুকুও পাচ্ছেন না। সরজমিন সোনারায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন কালে দেখা যায় কোন সেবা গ্রহিতাই নেই। ফরিদা বেগম নামের এক জন দম্পতি জানান, কেন্দ্রগুলোতে যেয়ে লাভ কী, ওষুধ ও ভিজিটর কাউকেই পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে কোন ক্লিনিক থেকে অর্থ ব্যায় করে চেকআপ সহ ওষুধ পত্র কিনতে হয়। যাদের অর্থ নেই তারা বরাবরই চিকিৎসা ছাড়া আল্লাহর উপর ভরসা করে দিন পারি দিচ্ছে। ধোপাডাঙ্গার সক্ষম দম্পতি আনোয়ারা বেগম জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে যেয়ে লাভ নেই। এগুলো দির্ঘদিন থেকে প্রায় বন্ধ। ভিজিটর নাজমুন্নাহার জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্র গুলোতে দির্ঘ কয়েক বছর থেকে ওষুধ ও ভিজিটির সংকটের কারনে তারা সক্ষম দম্পতিসহ সাধারণ রোগি, গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসা, চেকআপ, ডেলিভেরি সেবা ও ০ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশু স্বাস্থ্য সেবা কিশোর- কিশোরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদল কুমার বর্মণ বলেন জনবল ও ওষুধের অভাবে আমরা সেবা দিতে পাচ্ছি না। উপজেলায় ১ লাখ ২০ হাজার সক্ষম দম্পতি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া শিশু-কিশোর- কিশোরি ও সাধারণ মানুষ স্বান্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে জনবল নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।