রাজধানীর লালবাগে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার রুমের পাশের বারান্দায় মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুদের টাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ভবনটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর পর লাশের খোঁজ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তালেবুর রহমান।
আটক মাসুমের দুলাভাইয়ের দেওয়া তথ্যমতে, মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা ছিল।
মাসুমের দুলাভাই জানান, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিম রনির সঙ্গে মাসুমের বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা চাইতে ওয়াসিম রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান।
নিহত ওয়াসিম রনির স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন। একই সঙ্গে ওয়াসিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। মাসুমের স্ত্রী জানান, ওয়াসিম বাসায় এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে ওয়াসিম নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন।