দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলখ্যাত ঈশ্বরদীর মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের জোড় প্রস্তুতি। বীজ তলার পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। তারা আশায় বুক বেঁধেছেন যেভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে তাতে কোন বিপর্যয় দেখা না দিলে স্বপ্ন পূরণের হাতছানি রয়েছে।
রোববার সরজমিনে ঈশ্বরদীর সবজি প্রধান এলাকা সলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষ্ণীকুন্ডা ও মুলাডুলি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় শীতকালীন সবজি চাষের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজতলায় উৎপাদন করছেন রোপন উপযোগী চারা। অনিষ্ঠকারী রোগ পোকা-মাকড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় চাষিরা বেগুন, মুল, ফুলকপি, ওল কপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর কাঙ্খিত চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় সবজি চাষেও সরবরাহ যোগাচ্ছে। অপরদিকে আগাম জাতের কিছু কিছু সবজি ইতিমধ্যেই মাঠ সবুজ করে তুলেছে। মুলা, লাল শাক, গাজর ও বেগুন সহ আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ইতিমধ্যেই বাজারজাত করতে শুরু করেছেন চাষিরা। আগাম এ সবজি চাষের খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে এখন বেশ চড়া দামে এসব সবজি বিক্রয় হচ্ছে। তবে চাষিরা আশা প্রকাশ করছেন ভরা উৎপাদন মৌসুমে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী উত্তর পাড়া গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম জানান, এবার ৩০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যেই বাড়ির আঙিনায় ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আগামী ২/৪ দিনের মধ্যেই এ সকল চারা জমিতে রোপন করা হবে। বেশ কিছু জমিতে মুলা, লাল শাক ও বেগুন রোপন করা হয়েছিল। যা এখন বিক্রির উপযোগী বলেও জানান তিনি। বক্তারপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বিশ্বাস জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে আগামী ছয় মাস চলবে তাদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোর বিরাট অংশ বন্যা প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার চাষিরা চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষে পিছিয়ে পড়েছে। যার ফলে ঈশ্বরদীর চাষিরা এ মৌসুমে অধিক মূল্যে সবজি বিক্রির সুযোগ পাবে।
চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক আলম সরদার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিদের প্রস্তুতিতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। যা উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কৃষি শ্রমিক শামসুল আলম, রহমত আলী ও সাইদুল প্রামানিক জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহু গুণে। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলছে তাদের জমি প্রস্তুতির কাজ। বীজতলা পরিচর্যা এবং আগাম মৌসুমের সবজির জমিতে তাদের আগাছা নিধনের কাজ চলছে। পুরো মৌসুম জুড়েই তাদের এই ব্যস্ততা থাকবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান খান সাগর জানান, ঈশ্বরদীতে সবজি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঈশ্বরদীতে ব্যাপক হারে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা কাঙ্খিত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন এ লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত ভাবে মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের উন্নত চাষ পদ্ধতির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছি।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৬ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে মাঠে মাঠে জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন। তিনি আরও বলেন এবারে প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ মেট্রিক টনের অধিক এ সবজি উৎপাদিত হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলা এবং সবজি ক্ষেতে পোকা-মাকড়ও রোগবালাইয়ের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়নি। কৃষি অফিস এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।