বিএনপি নেতার প্রহসনের সালিশ, দুইদিন পরই যুবতীর মৃত্যু

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
বিএনপি নেতার প্রহসনের সালিশ, দুইদিন পরই যুবতীর মৃত্যু

প্রহসনের সালিশের দুইদিন পরই রহস্যজনকভাবে গিতা রানী দাস (৩০) নামের এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামের। মৃত গিতা রানী ওই গ্রামের দিনমজুর গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে।

সরেজমিনে মৃতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে একই এলাকার লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সাথে গিতা রানীর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। পরবর্তীতে তারা শাখা-সিদুর ও মালা বদল করে কথিত বিয়েও করেন। গত দেড় মাস পূর্বে গিতা রানী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। এরপর থেকে গিতাকে মেনে নিতে চাচ্ছিলোনা সঞ্জয়। এনিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক ব্যক্তি মিলে গ্রাম্য সালিশ করেন। প্রথম দফার সালিশে গিতা রানীকে স্ত্রী এবং তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করা কন্যা সন্তানকে মেনে নিয়ে বাড়িতে উঠানোর রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের পর সঞ্জয় এবং তার পরিবার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গিতা ও তার নবজাতক কন্যাকে তাদের (সঞ্জয়) বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে সালিশের স্থান ত্যাগ করেন।  সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তীতে সালিশের ওই রায় না মেনে সঞ্জয় এলাকা থেকে আত্মগোপন করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এনিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠকে বসা হয়। সালিশে সঞ্জয়ের সাথে গিতা রানীর সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য গিতাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সালিশকারীরা। স্থানীয় ও মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম দফার সালিশে সঞ্জয় তাদের বাড়িতে গিতাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মিথ্যে আশ্বাস দেয়। দ্বিতীয় দফার সালিশে প্রহসনের রায় দেয় সালিশকারীরা। 

যেকারণে ওই সালিশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেন গিতা রানী। রবিবার বিকেলে গিতা অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে বাটাজোর সুইজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে গিতা রানীর মৃত্যু হয়।  তবে মৃত গিতা রানীর বাবা গোপাল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তার মেয়ে গিতা দীর্ঘদিন থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। 

বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা বলেন, এ ঘটনার আমি কোন সালিশ করিনি। এমনকি এরকম কোন রায়ও দেইনি। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, গ্রামবাসী গিতা রানীর মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক দাবি করায় তার (গিতা) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে মরদেহ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে