ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
ছবি: সংগ্রহীত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই হবে না, তা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, চলতি বছর একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু কোনো নতুন রোগ নয়। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ রোগের সঙ্গে লড়াই করছে। তাই ডেঙ্গু নির্মূলের উদ্যোগ নিতে হলে রোগটির দীর্ঘ ইতিহাস, পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং মশার বিস্তারের কারণগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আবদুল মঈন খান বলেন, চীনের প্রাচীন মেডিকেল এনসাইক্লোপিডিয়ায় ২৬৫ খ্রিস্টাব্দে ডেঙ্গুর উল্লেখ পাওয়া যায়। ২৬৫ থেকে প্রায় ৪৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোগটির বিস্তারিত বিবরণও সেখানে রয়েছে। প্রাচীন সময়ে রোগটির বৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র জয়েন্টের ব্যথা ও শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গের কারণে এটিকে ‘ব্রেকবোন ফিভার’ বলা হতো।

চলতি বছরের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর পিক পিরিয়ড। নভেম্বর পর্যন্তও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকতে পারে।

তিনি বলেন, “শুধু পরিকল্পনা তৈরি করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না, মাঠপর্যায়ে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।” ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে বেশি কার্যকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি সেমিনারেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যু আগেও ছিল, এখনও আছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। সামনের দিনে যাতে এই সংখ্যা আর না বাড়ে, সে জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সচেতনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। ডেঙ্গুর উৎপত্তি ও বিস্তারের কারণ চিহ্নিত করে অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে ১০০টি ফগার মেশিন বিতরণ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ অফিসের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ইফ্ফাত মাহমুদ। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, নিপসম, আবহাওয়া অধিদপ্তর, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে