অসুস্থ বাবা বাড়িতে শয্যাশায়ী। আর মা একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন সে কাজ এখন রয়েছে বন্ধ। বাধ্য হয়ে কলেজ পড়ুয়া পলক মল্লিককে লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের বোঝা টানতে কাজে নামতে বাধ্য হয়েছিল।পরিবারের সবাই দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে হবে এ কারনে একটি ইজিবাইক কিনে নিজেই ভাড়ায় চালাতো। এ থেকেই তার নিজের লেখাপড়ার খরচ এবং পরিবারের ৪ সদস্যের সংসার। কিন্ত সে সুখ তার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ইজিবাইকটি হারিয়েছে কলেজ ছাত্র পলক মল্লিক। এখন আয়ের আর কোন উৎস না থাকায় অনাহার অর্ধাহার এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আবার ইজিবাইক কেনার সেই ঋনের টাকার কিস্তি হয়ে গেছে গলার কাটা। ভ’ক্তভোগী পলক মল্লিক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কলেজ পাড়ার জয়দেব মল্লিকের ছেলে ও সরকারী মাহাতাব উদ্দিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র।
পলক মল্লিক জানায়, বাবা মায়ের সন্তানের মধ্যে সে ও তার বোন আছে। বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে সে ছাড়া এখন বৃদ্ধ বাবা মায়ের দেখার কেউ নেই। তেমনি নেই রোজগারের কোন উৎস। যখন সে মাধ্যমিকে পড়তো তখন বাবা মা দু’জনই পয়সা রোজগার করতেন। তখন সংসারে হাসি আনন্দে ভরা ছিল। কিন্ত তাদের রোজগার বন্ধ হওয়ার পর অভাব নামের যন্ত্রনাটির যাতাকলে সবাই পিষ্ট হতে থাকে। এমন পরিবেশে বাধ্য হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজে নামতে হয় তাকে। এজন্য জমানো কিছু টাকা ও এনজিও থেকে টাকা নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনে নিজেই ভাড়ায় চালাতে শুরু করে। এতে চলছিল তাদের দিনকাল। কিন্ত সেটিও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩/৪ জন যাত্রী নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের যায়। ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌছালে যাত্রী লিটন আলী তার ইজিবাইকটি দাড় করায়। এ সময় ইজিবাইকের অপর যাত্রী সবুজ শেখ নেমে যায়। কিছু সময় পর চালক পলককে সামনেই রাস্তার মোড় থেকে সবুজ শেখকে ডেকে আনতে বলে। পলক তার কথামতো সবুজকে ডাকতে গিয়ে ফিরে এসে দেখে ঘটনাস্থলে ইজিবাইকটি নেই। প্রতারকচক্ররা তার ইজিবাইকটি নিয়ে গেছে। কোথাও খুজে না পেয়ে পরদিন ঝিনাইদহ সদর থানাতে একটি অভিযোগ দেয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। পরবর্তীতে, গত ২৩ জুলাই ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১১ জন চোর ছিনতাইকারী আটক হওয়ার খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থানাতে যায়। সেখানে আটককৃতদের মধ্যে তার ইজিবাইক চুরির সাথে জড়িত কুষ্টিয়া জেলার লিটন আলী ও সবুজ শেখকে সনাক্ত করতে পারে। কিন্তু ২৯ আগষ্ট ওই দুই চোরের নাম উল্লেখ করে পূনরায় ঝিনাইদহ সদর থানাতে আরও একটি অভিযোগ জমা দেন। কিন্তু পুলিশ তৎপরতা তেমন না থাকায় তার ইজিবাইকটি উদ্ধার হয়নি। পলকের মা রুপালী পাল জানান, ইজিবাইকটি হারিয়ে তাদের সংসারে চরম অভাব ও হতাশা বিরাজ করছে। এখন তাদের আয়ের আর কোন উৎস না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ইজিবাইক চুরির অভিযোগ পেয়েছেন। সে সময়ে পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছেন। তবে কোন ক্লু না পেলেও ইজিবাইকটি উদ্ধারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।