পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৭৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার ফসলের মাঠে পানি ঢ়ুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পানি বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করায় বন্যা ও নদী ভাঙনের শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ও লক্ষ্ণীকুণ্ডা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর করে মুলা ও গাজরের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। আওতাপাড়া এলাকায় পেঁপে ও কলার বাগানসহ আরও প্রায় ৭৫ হেক্টর ফসলি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকায় শীতকালীন সবজি ও আগাম জাতের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, পদ্মার পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, মাজদিয়া ও ইসলাম পাড়ার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কখন নদীতে বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়-এ আশঙ্কায় অনেকেই রাত জেগে নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন। পদ্মা নদীতে গত ১০ দিন ধরে পানি বাড়ছে এবং এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, নদীর পানি কিছুটা লোকালয়ে ঢ়ুকে পড়ায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এলাকার কৃষকরা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন বলেন, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্ণীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলের জমিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করার আশঙ্কা বিরাজ করছে।