নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সমপ্রতি ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই খুন, ছিনতাই, সশস্ত্র সংঘর্ষ, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি কিংবা চাঁদাবাজির খবর চোখে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যানেও অপরাধ বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় সামপ্রতিক মাসগুলোয় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। পুলিশি তদারকির অভাব এবং অপরাধীদের জামিনে সহজে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা সামগ্রিক প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপহরণের ঘটনা। জানা যাচ্ছে, দুই হাজারের বেশি শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের পরিবারগুলো প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বলা বাহুল্য, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া যেখানে রাষ্ট্রের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক দায়িত্ব, সেখানে সাধারণ মানুষ নিজের বাসস্থান কিংবা রাস্তায় চলাচলেও চরম অস্বস্তি অনুভব করছে। নাগরিকের নিরাপত্তাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক সংরক্ষিত এবং নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের রক্ষাকবচ। অন্য মানুষকে নিরাপদ রাখা ও বাঁচতে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সমপ্রতি নাগরিকরা যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি চলছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আবার ছিনতাইকারীরা সবকিছু ছিনিয়ে নিচ্ছে। এর দ্রুত সুরহা দরকার এবং যারা এসব করছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার।একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকরা এভাবে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করতে পারে না। এমতাবস্থায় পরিস্থিতির আর যাতে অবনতি না হয়, সেজন্য সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করি আমরা। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল বাহিনীগুলোর অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং অপরাধের সামাজিক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও বন্ধ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।