গাজীপুরের টঙ্গীতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর হামলা ও পাথর নিক্ষেপ করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুর্বৃত্ত্বদের হামলায় মাসুদ (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১০টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আবুল হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৩০), মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৪), আহাম্মদ আলীর ছেলে নাইম মিয়া (২৮), আনিছুর রহমানের ছেলে সোহাগ (৩০) ও আব্দুল বারেকের ছেলে আদর (২১)। পুলিশ জানায়, একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুল (২৭) কেরানীরটেক বস্তিতে অবস্থান করেছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে কেরানীরটেক মাদক বস্তি থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী রানী বেগমের ছেলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে থানায় নিয়ে আসার সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা পুলিশের উপর এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বস্তিবাসী জানান, হামলাকারিরা পুলিশের উপর হামলা ও পাথর নিক্ষেপ করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে হ্যান্ডকাফ পড়া অবস্থায় ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে রেললাইনের পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ টঙ্গীর বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে পলাতক রাহুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এবিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুূুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাঁচটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আসার সময় সন্ত্রাসীরা হামলা ও পাথর ছুঁড়ে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় পাথরের আঘাতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হয়। এই ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি হ্যান্ডকাফসহ আসামী ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।