গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাপ্তরিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শামসুজ্জোহা আলম সোহাগ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র মেকানিক। আর হামলার শিকার শাহানা পারভিন সুমি একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঐ হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে দাপ্তরিক বিষয়ে সুমি ও সোহাগের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ উত্তেজিত হয়ে সুমির ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এ সময় ভারী স্ট্যাপলার ও স্টিলের স্কেল দিয়ে তাঁর মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়।
আঘাতে সুমি মেঝেতে পড়ে গেলে তাঁর ঘাড় ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সুমির চিৎকার শুনে ল্যাব টেকনোলজিস্ট আমিনুল ইসলাম মানিক, অফিস সহকারী আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমিকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেন। এছাড়া ঘাড়, গলা ও হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহাগের বাড়ি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে আসছিলেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।