খুলনার পাইকগাছায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশন করেছেন এক সন্তানের জননী তৃপ্তি বিশ্বাস (৩৮)। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও প্রেমিক রবিউল গাজী তা অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্র ও তৃপ্তি বিশ্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রবিউল গাজীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে রবিউল বিয়েতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এমন অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রবিউল গাজীর বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। তৃপ্তি বিশ্বাসের অভিযোগ, অনশনের একপর্যায়ে দুপুরের দিকে রবিউল গাজী তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তিনি রবিউলের বাড়ির পেছনে অবস্থান নিয়ে সেখানেই অনশন চালিয়ে যান। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁদের আশ্বাসে তৃপ্তি বিশ্বাস অনশন ভঙ্গ করেন। তবে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তৃপ্তি বিশ্বাস বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ার সময় রবিউল গাজীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তাঁর স্বামী মারা গেলে রবিউল তাঁকে বিয়ে করার কথা বলেন। প্রায় আট বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তৃপ্তির ভাষ্য, রবিউল আমাকে বিয়ে করার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসে অনশন করেছি। রবিউল গাজী বলেন, তৃপ্তি বিশ্বাসের সঙ্গে আমার সম্পর্কের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। শত্রুপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তৃপ্তিকে দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। তাঁকে মারধর করার অভিযোগও সত্য নয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, রবিউল গাজী এর আগে একই সময়ে দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার করতেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং তিনি চলে যান। অন্যদিকে তৃপ্তি বিশ্বাস প্রয়াত স্কুলশিক্ষক বিধান কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।