সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর মাত্র ২৭দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই বড় উৎসব। এজন্য মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কারিগররা। সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর হবে মহালয়া। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠ্যাদী কল্পারম্ভ বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। পরদিন ১৭ অক্টোবর নব পত্রিকা প্রবেশন্তে সপ্তমী বিহিত পূজা। ১৮ অক্টোবর সপ্তমী বিশেষ পূজা ১৯ অক্টোবর মহা অষ্টমী ও সন্ধী পুজা। ২০ অক্টোবর মহানবমী পূজা এবং ২১ অক্টোবর দশমী বিহিত পুজান্তে দর্পন বিসর্জন।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। উলিপুর পৌরসভার পূর্ব শিববাড়ি গ্ৰামের প্রতিমা তৈরির ব্যবসায়ী কারিগর গোবিন্দ রায় (৪৩) বলেন, বাজারে সব কিছুরই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবছর এ সময় ১২ থেকে ১৪টি প্রতিমা তৈরি করে থাকি। এ বছর মাত্র ১০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। কি হবে জানিনা। এখন পর্যন্ত ৪টি প্রতিমা নেয়ার জন্য বায়না হয়েছে। বাকি ৬টির কি হবে জানিনা। তারপরও মনে সাহস নিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটা প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয় থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। প্রতিমা কারিগর রামকৃষ্ণ ওরফে কাশীনাথ রায় (৪৫) এর স্ত্রী স্মৃতি রানী জানান, প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ টি প্রতিমা তৈরি করে থাকি। স্বামীর পা এবং শারীরিক সমস্যার কারণে এবার দুজন মিলে ৬টি প্রতিমা তৈরি করছি।
বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুনীল চক্রবর্তী ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার বলেন, সময়সূচী অনুযায়ী পুজা সমাপন করা এবং প্রত্যেক মন্ডপে চন্ডীপাঠ করতে হবে। ধর্মীয় গান ছাড়া কোন ধরণের অশ্লীল গান বাজানো চলবে না। আযান ও নামাজের সময়সূচী মেনে চলতে হবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল রায় বলেন, এবছর উপজেলায় ১১২ থেকে ১১৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তালিকা পাওয়া যায়নি। গত বছর ১১২ টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারে দুই একটা বাড়তে পারে।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে দেওয়া হবে না। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে পুলিশ বদ্ধপরিকর, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পর্কে এখনে কোনোকিছু বলতে পারছি না। এখন পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে তখন জানাবো।