সুগন্ধার ভয়াল ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বাবুগঞ্জ বাজার

২০০ গজ নদীগর্ভে, বিলীন মসজিদ-বসতভিটা-দোকান, প্রতিরোধের দাবি

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) : | প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
২০০ গজ নদীগর্ভে, বিলীন মসজিদ-বসতভিটা-দোকান, প্রতিরোধের দাবি

হঠাৎ করেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সুগন্ধা নদী। রাতের আঁধারে শুরু হওয়া আকস্মিক নদীভাঙনে বরিশালের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন প্রায় ২০০ গজ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে একটি পুরোনো মসজিদ, খেয়াঘাটের গণশৌচাগার, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকানসহ গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আরও কয়েকটি স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙন শনিবার দিনভরও অব্যাহত ছিল। নদীর পাড়ে একের পর এক ধস নামায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন আরও বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে নদীর পেটে চলে গেছে বেশ কিছু স্থাপনা। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে নবনির্মিত খেয়াঘাট জামে মসজিদ, একাধিক দোকান এবং বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন সংযোগ সড়ক। একই সঙ্গে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর পন্টুন।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাবুগঞ্জ বাজারের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বছরের পর বছর ভাঙন, স্থায়ী সমাধান নেই

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় আবারও নদী গিলে নিচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সম্পদ।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ আদনান বলেন, বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এবারও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাবুগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবুগঞ্জ বাজার এবং তৎসংলগ্ন ঘরবাড়ি ও স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালকে একাধিকবার আবেদন করে ভাঙনের ভয়াবহতা জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, মানুষের ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে সেই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বাবুগঞ্জের কৃতী সন্তান ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্প জমা দেওয়ার কথা জানালেন এমপি জয়নুল আবেদীন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া আছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বাজার রক্ষা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করব। নদীভাঙন ও জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল, বরাবরের মতো আবারও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সুগন্ধা নদীর ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভাঙন নবনির্মিত মসজিদ, দোকানপাট, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙনের গতি থামাতে হবে। একই সঙ্গে বাবুগঞ্জ বাজারকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, আজ যে ২০০ গজ এলাকা নদীগর্ভে গেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে ভাঙনের পরিধি আরও বাড়তে পারে। তখন শুধু কয়েকটি স্থাপনা নয়, বাবুগঞ্জ বাজারের বড় একটি অংশই নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও জরুরি বার্তা তৈরি করতে শিরোনামের বিকল্প: সুগন্ধার ভয়াল থাবায় বাবুগঞ্জ বাজার, ২০০ গজ নদীগর্ভে, এখনই প্রতিরোধ না হলে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে