জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন গ্রামের ১০ বছরের শিশু তাসনিয়া হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী একরামুলের গোয়ালঘর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়। একমাত্র কন্যার হত্যার ঘটনায় পলাতক প্রধান দুই আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাসনিয়া উপজেলার শালবন গ্রামের এরশাদ ও রোজিনা দম্পতির একমাত্র কন্যাসন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের দুই দিন পর প্রতিবেশী একরামুলের গোয়ালঘর থেকে তাসনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই দিন ঘটনার সাথে জড়িত ও বাড়ির মালিকের স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে গ্ৰেফতার করে। অভিযুক্ত একরামুল পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে। সেই থেকে যে গোয়ালঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই বাড়িটিও বর্তমানে পরিত্যক্ত।
পরিবারের দাবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তে তাসনিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছেন পুলিশ। তবে মামলার অপর তিন আসামি জেলহাজতে থাকলেও প্রধান অভিযুক্ত দুই আসামি আব্দুল ওয়াহেদ খোকন ও গোলাম কিবরিয়া নাইম এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাসনিয়ার বাবা এরশাদ আলী বলেন, আমার কন্যার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
বড়তারা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, মামলাটির চার্জশিট হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছি। ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মুক্তারুল আলম বলেন, তাসনিয়া হত্যার মামলায় চার্জশিট আদালতে দেওয়া হয়েছে এবং বিচারাধীন রয়েছে। দুই আসামি পলাতক আছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।