এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবায়ন, উপকূলজুড়ে নিরাপদ সুপেয় পানির নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায় বিচার-এই তিন স্লোগানকে সামনে নিয়ে উপকূলজুড়ে হাঁটছেন টনি। হাঁটবেন ৭৫০ কিমি উপকূল। ২৯ বছর বয়সী এই যুবকের পুরো নাম মাসফিকুল হাসান টনি। বনপাড়া নাটোরের বাসীন্দা এই অদম্য যুবক হাইকার ও পরিবেশকর্মী। বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। হাঁটা শুরুর সপ্তম দিনে টনি কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন বেড়িবাঁধের স্লোপে পৌছেন রবিবার সন্ধ্যায়। সন্ধ্যায় টনিকে শুভেচ্ছা জানান, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠকরা। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাঁর এই পদযাত্রায় সংহতি প্রকাশ করেন পরিবেশ সংগঠকরা। স্থানীয় কুয়াকাটার পরিবেশ কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উপকূলের নদী, সাগরঘেঁষা ছোট্ট রাস্তা কিংবা বেড়িবাঁধে হেঁটে চলা যুবক টনি জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা কৈখালী ইউনিয়নের পাঁচ নদীর মুখ থেকে এবারে তার পায়ে হাঁটা শুরু করেন। টেকনাফের শাহ-পরীর দ্বীপের জেটিঘাটে শেষ করবেন বলে জানান। সপ্তম দিনে বরগুনার তালতলী থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় কুয়াকাটা পৌছেছেন টনি।
টনি জানালেন, তিনি আন্ধারমানিক নদীর তীরের বাসীন্দা এক জেলে ইউসুফের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন এখন আর এই অভয়াশ্রমে ইলিশ মেলে না। সাগরে যেখানে ছোট নৌকায় আগে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে গেলে প্রচুর ইলিশ পেতেন। এখন ৩০-৯০ কিলোমিটার দূর, গভীরে না গেলে ছিটে-ফোটা ইলিশও মেলে না। কিন্তু তাদের নেই সক্ষমতা নেই। অগভীর এলাকার জেলেরা এখন বেকার হয়ে পড়ছেন মাছের সংকটে। পেশায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আশঙ্কা করেন উপকূলের নদী ও সাগরের কিনারের এইসব বসতিও হয়তো দুই-এক বছর পরে থাকবে না।
মাসফিকুল ইসলাম টনি বলেন, ‘ আমি এইবারে এই উপকূলের মানুষের খাওয়া পানি দেখেছি। এটি সয়াবিন তেলের মতো দেখায়।’ এটি খাওয়া নিরাপদ নয় বলে তিনি ধারণা করছেন। এটি নিয়ে এখনই গবেষণার দরকার রয়েছে। টনির দাবি, এই অঞ্চলে উপকূলে কয়লাভিত্তিক একাধিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হওয়ার কারণে ইলিশের সংকট হয়েছে বলে জেলে ও সাধারণ মানুষ তাকে জানিয়েছেন। তাই গোটা উপকূলে এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি জানান টনি। টনি আজ সোমবার দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার সাগরঁেঘষা পথে হাঁটছেন। তিনি ভোলা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার গিয়ে তাঁর এই পদযাত্রা শেষ করবেন বলে নিশ্চিত করেন। হাঁটবেন অন্তত ৭৫০ কিলোমিটার উপকূল। টনি জহানালেন এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি নদী অববাহিকার রৌমারি থেকে ভোলার চরকুকরিমুকরি পর্যন্ত ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন।