কালীগঞ্জে ড্রাগন বাগানে রাতভর জ্বলছে এলইডি বাতি, লোডশেডিংয়ে মানুষ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
কালীগঞ্জে ড্রাগন বাগানে রাতভর জ্বলছে এলইডি বাতি, লোডশেডিংয়ে মানুষ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সন্ধ্যা নামলেই একের পর এক ড্রাগন ফলের বাগানে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার বৈদ্যুতিক এলইডি বাতির আলো। রাতভর এসব বাতি জালিয়ে রাখছেন ড্রাগন ফলচাষিরা।

ড্রাগন ক্ষেত মালিকরা মনে করেন দীর্ঘ সময় আলো দিলে দ্রুত ও বেশি ফলন পাওয়া যায় । তবে বাগানে ব্যাপকহারে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের কারণে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রভাব পড়ছে সাধারণ বিদ্যতি গ্রাহকদের ওপর। ড্রাগন মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। এ সময় যে উৎপাদন হয় তার চেয়ে বেশি ফলন হয় লাইটিং পদ্ধতিতে। এতে করে ড্রাগন ফল চাষী বেশি ফলনের পাশাপাশি ভালো বাজার মূল্যও পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সকাল ১১ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সকল প্রকার আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধকরণ এবং সকল প্রকার আলোকসজ্যা বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এমন একটা সময়ে ঝিনাইদহে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষীদের লাইটিং পদ্ধতিত ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচে ড্রাগন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। অথচ ড্রাগন দেশের প্রধান অর্থকারী ফস না হলেও চাষীরা কেবল নিজেদের অধিক মুনাফার জন্য লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সর্বসাধারণের জন্য  বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের এই সময়ে ড্রাগন চাষীদের বৈদ্যুতিক আলোয় চাষাবাদ করার বিষয়ে জনমনে উঠেছে নানা ধরনের প্রশ্ন।কালীগঞ্জ উপঝেরা কৃষি অফিস জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ১ হাজার ৭৯১ জন কৃষক ৪৪৭ হেক্টর জমিতে বর্তমানে ড্রাগন ফল চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তন্মধ্যে ২৫১ জন ড্রাগন ফলচাষি তাদের বাগানে অধিক ফলন পেতে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার করছেন।কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগানে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সারিবদ্ধ ভাবে অসংখ্য বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে রাতের সময় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ড্রাগন বাগান গুলোতে রাতভর বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর সময় এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায়গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে।

কালীগঞ্জ শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রাতে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এদিকে, ড্রাগন চাষে রাতের বেলায় বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা এবং এর কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রকৃত প্রভাব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন,বালিয়াডাঙ্গা,আজমতনগর, শিবনগর, চাচড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে অনেক ড্রাগন চাষী রাতভর তাদের বাগানে আলো জালিয়ে রাখছেন। 

সাধারণ মানুষের দাবি, যেসব ড্রাগন বাগানে নিয়মবহিরর্ভুত ভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ বা অরিয়মিত সংযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাগানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।চাচাড়া গ্রামের ড্রাগন চাষি খলিলুর রহমান বলেন, ড্রাগন গরম কালের ফল হলেও লাইটিং পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় শীত মৌসুমে এ ফলটি পাওয়া যায়, আর বাজার মূল্যও ভালো পাওয়া যায়। যার কারনে এ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করতে শীত আসার আগেই শুরু করেছে কৃষকরা।আমাদের এলাকার অনেকেই এখন লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছে। আমিও আমার এক বিঘা জমিতে লাইটিং করেছি শীতকালে চাষ করবো বলে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, ড্রাগন চাষীদের লাইটিং পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে কৃষি অফিস থেকে কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয় না। যেসকল  চাষিরা এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন তারা প্রত্যেকেই নিজেদের সিদ্ধান্তেই করছেন। 

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর কালীগঞ্জ উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলী জয়দ্বীপ সরকার বলেন, সরকারি ভাবে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের তালিকায়কৃষি খাতের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে ড্রাগন বাগানে রাতভর বৈদ্যুতিক আলো জ্বলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব।  কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ড্রাগন বাগানে রাতভর এলইডি লাইট জ্বালিয়ে রেখার কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারটি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে