সৈয়দপুরে কাচ্চি বিরিয়ানি হাউস বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
সৈয়দপুরে কাচ্চি বিরিয়ানি হাউস বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কাচ্চি বিরিয়ানি হাউস। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিপণিবিতান এলাকায় গড়ে ওঠা এসব খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না,খাবার সংরক্ষণ, ফ্রিজে রাখা পুরোনো খাবার পরিবেশন এবং খাদ্যে অনুমোদনহীন রং বা রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভোক্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুর শহরে বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক বিরিয়ানি হাউস চালু রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের স্থান অপরিচ্ছন্ন। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ক্রেতাদের পরিবেশন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করে পরিবেশন করা হয় এমন অভিযোগ ভোক্তাদের।

এ ছাড়া বিরিয়ানিতে আকর্ষণীয় রং আনতে বিভিন্ন ধরনের রং বা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব উপাদান খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত মাংসের উৎস ও মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। শহরের রংপুর রোড, সৈয়দপুর প্লাজা, শেরে বাংলা সড়কের বিজলী মোড়, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, সোহেল রানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এসব বিরিয়ানি হাউস গড়ে উঠেছে।

ভোক্তাদের আরও অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয় এবং স্থানীয় সরকারের নির্ধারিত কর ও ফি পরিশোধের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কেউ কেউ সরকারি ভ্যাট, পৌরকরসহ বিভিন্ন ফি ফাঁকি দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, খাবারের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, কাঁচামালের মান, মাংসের উৎস, খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং অনুমোদিত খাদ্য উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র রয়েছে কি না, সেটিও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা প্রয়োজন। ভোক্তাদের অভিযোগ, শহরে এত বিপুলসংখ্যক বিরিয়ানি হাউস গড়ে উঠলেও নিয়মিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত তদারকি না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় সমস্যায় পড়ছে। এ অবস্থায় অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাই করে সৈয়দপুরের বিরিয়ানি হাউসগুলোতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে খাদ্যে অনুমোদনহীন রং বা রাসায়নিকের ব্যবহার, পুরোনো খাবার পরিবেশন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কোন প্রতিষ্ঠান আইন বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করছে তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন ও পরীক্ষাগারভিত্তিক খাদ্য পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে