চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

এফএনএস (এম. কে সিদ্দীক; চৌগাছা, যশোর) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

যশোরের চৌগাছায় চলতি মওসুমে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থায় গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান।

গত বছরের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়ে এবার কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু জটিল নিয়মনীতি ও খোলাবাজারের চেয়ে খাদ্যগুদামে দাম কম হওয়ার কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন চাষিরা। শুধু এবারই নয় কয়েক বছর গম সংগ্রহের চিত্র ছিল একই রকম। খোলাবাজারের সঙ্গে সরকারি দরের তারতম্যের কারণে এ সময়ে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি গুদামের কর্মকর্তারা। ফলে এ বছরও চৌগাছায় সরকারি গম সংগ্রহের ঝুলি শূন্যতেই আটকে রয়েছে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ৩ মে থেকে গম ক্রয় মৌসুমে ৫২ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কেনাবেচা শুরু হয়। এ বছর উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার কৃষক  ২৮৫ হেক্টর জমিতে গম  চাষ করেছেন। যেখানে উৎপাদন হয়েছে প্রায় এক  হাজার একশো ৮০ মেট্রিক টন। তারপরও সরকারি গুদামে এক কেজি গমও বিক্রয় করতে আসেনি কোন কৃষক । কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গুদামে গম না আসার পেছনে প্রধান কারণ সরকারি শর্তের জটিলতা ও বাজারদর। বর্তমানে উন্মুক্ত বাজারে প্রতি মণ গম বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়, যা সরকারি দরের চেয়ে মণপ্রতি অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি। তাছাড়া গুদামে বিক্রি করতে গেলে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে। এদিকে, বাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতা থাকলেও ব্যবসায়ীরা অনায়াসে গম কিনে নিচ্ছেন।

চাষিদের অভিযোগ, গুদামে গম নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া, কুলি খরচ ও পরিমাপের ঝামেলার পেছনে মণপ্রতি আরও বাড়তি ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই লোকসান ও হয়রানি এড়াতে সাধারণ কৃষকরা খোলা বাজারেই গম বিক্রি করে দিচ্ছেন। রামকৃষ্ণপুর গ্রামের  গমচাষী লাবলু রহমান  জানান, বাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকায় গম বিক্রি করা যায়। গুদামে যদি বাজারের চেয়ে মণপ্রতি এক-দেড়শ টাকা বাড়তি দাম দেওয়া হতো, তবে কৃষকরা অবশ্যই সরকারি গুদামে যেতেন। খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের নির্ধারিত দাম ৩৬ টাকা, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫-৬ টাকা কম। তাই কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।

উপজেলা গম, ধান ও চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম জানান, বাজারের প্রকৃত চিত্রসহ আগামীতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে