শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি সংকটে চাঁদপুর আইএমটি

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি সংকটে চাঁদপুর আইএমটি

শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চাঁদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির (আইএমটি) স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। দীর্ঘ দিন ধরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুর শহরের ইসলামপুর গাছতলা ব্রিজের পাশে অবস্থিত। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও বর্তমানে নানান সীমাবদ্ধতায় সংকটে পড়েছে স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠ।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এখানে বর্তমানে ৩ শত জন নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ৭৫ জন স্বল্পমেয়াদি (শর্ট কোর্স) কোর্সের শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। প্রতিষ্ঠানে মোট ১২ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। বাকি ৪টি পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা ও বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জানান, "বর্তমানে চরম শিক্ষক সংকট চলছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও সংকট রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে আমাদের প্রশিক্ষণ দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।"

তিনি আরো জানান, সিডিসি সংক্রান্ত দাবির মুখে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে বিগত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির 'ফ্রি ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন' কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পূর্বে এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০০ জন থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে মূলত ‘মেরিন’ ও ‘শিপ বিল্ডিং’-এই দুটি প্রধান বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক্যাল, শিপ পাইপিং ও মেশিন শপ নামে চারটি ট্রেড কোর্স চালু আছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে দুটি আবাসিক হোস্টেল। শিক্ষা ও উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত উন্নয়নমেলায় প্রতিষ্ঠানটি 'বেস্ট স্টল' পুরস্কার অর্জন করেছিল। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে