কলারোয়ায় পরকীয়ায় প্রেমিক আটক, অর্থ দিয়ে রফা-দফার অভিযোগ

এফএনএস (জুলফিকার আলী; কলারোয়া, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
কলারোয়ায় পরকীয়ায় প্রেমিক আটক, অর্থ দিয়ে রফা-দফার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৭ নম্বর চন্দনপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনপুর গ্রামের শহর আলী মোড় এলাকায় পরকীয়ায় লিপ্ত অবস্থায় এক যুবক গণধোলাইয়ের শিকার ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় স্থানীয় রোকেয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম লাভলু। তিনি কলারোয়ার পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাভলুর অনৈতিক আচরণের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন ও মিলন হাতেনাতে ধরে ফেলেন। মুহূর্তে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামবাসী এসে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হায়দার আলী, বুলবুল এবং পাশের কায়বা ইউনিয়নের গয়ড়া বাজারের খাজনা আদায়কারী শফিক ঘটনাস্থলে হাজির হন। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ওই রাতেই লাভলুকে স্থানীয়দের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় তারা।

অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিচার ধামাচাপা দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় চন্দনপুর গ্রামের মাহাবুর, পলাশ, সবুজ, ছোট খোকা, মনিরুল ও তোফাজ্জেলসহ সাধারণ বাসিন্দারা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং গ্রামে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানোর জবাবে তারা সাবেক চেয়ারম্যানের ভবানীপুরের বাসভবনে যান। সেখানে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় বর্তমানে পুরো কলারোয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাসূত্রে আরও জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার পরিবারের মূল বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। সম্প্রতি তারা সাতক্ষীরার কলারোয়ার চন্দনপুর গ্রামের শহর আলী মোড়ে জমি ও বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করেন। গৃহবধূর স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে লাভলু অনৈতিক উদ্দেশ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবু রায়হান জানান, "বিষয়টি আমি শুনেছি। বহিরাগত এই পরিবারের স্বামী বিদেশে থাকেন। লাভলু পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের হওয়ায় তাদের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হতে বসেছে। এ বিষয়ে আমি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে চন্দনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আসানুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি শোনার পর আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনূকূলে না থাকায় সেখান থেকে চলে আসি। তবে তারা যে অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল, তা সত্য। এলাকা শান্ত রাখতে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। সামাজিক অবক্ষয় ও বেআইনিভাবে বিচার অর্থ দিয়ে রফা-দফার অভিযোগে কলারোয়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান চন্দনপুরের সচেতন মহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে