কালীগঞ্জে কীট সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
কালীগঞ্জে কীট সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু  পরীক্ষা বন্ধ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেগু শনাক্তের কীট সংকট দেখা দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডেগু পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এতে ডেগুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮২ জন রোগীর ড্গেু পরীক্ষা করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৩৭ জনের ডেগু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ৩৪ জন ড্গেু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু পরীক্ষার রোগিরা পরীক্ষা করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্যস্থানে। আবার কিট কবে এ হাসপাতালে আসবে তা দায়িত্বরত কর্মরত ডাক্তাররা বলতে পারছেন না।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ডেগু পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের তুলনামূলক কম খরচ হয়। এনএস ১ ধরনের ডেগু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া আইজিএমও আইজিজি ধরনের ড্গেু পরীক্ষা সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকা ফি দিয়ে করা যায়। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের ড্গেু পরীক্ষা করতে রোগীদের প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ড্গেু নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ কালীগঞ্জ হাসপাতালে ৩ দিন যাবত কীটের অভাবে ড্গেু রোগ পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.আমানুল্লাহ আল মামুন  এ ব্যাপারে নেননি  কোনো ব্যবস্থা। সঙ্গত কারণেই এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত ডেগু পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কীটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন করে কীট সরবরাহ করা হয়নি।

ডেগুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী শাহাদত হোসেন বলেন, চিকিৎসক ডেগু পরীক্ষা করতে বলেছেন। কিন্তু ল্যাবে কীট না থাকায় পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেগু নিয়ে সরকার চিন্তিত হলেও কালীগঞ্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে যারা শিথিলতা দেখিয়েছেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরী বলে আমি মনে করি। 

হাসপাতালে ডেগু উপসর্গ নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থী দীপান্বিতা বিশ্বাস ডাক্তার দেখালে তাকে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বলা হয়।কিন্তু পরীক্ষা করতে গেলে সরকারি এ হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগ থেকে জানানো হয়পরীক্ষা হবে না।যে কারণে বাধ্য হয়ে তারা দীপান্বিতাকে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে কয়েক গুণ অর্থ ব্যায় ড্গেুর পরীক্ষা করতে হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমাদেরও পর্যাপ্ত কীট ছিল। সেখান থেকে কিছু কীট অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার কীটের মজুত হবে এবং ড্গেু পরীক্ষা স্বাভাবিক ভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে