কাপাসিয়ায়

লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী গ্রেফতার

এফ এম কামাল হোসেন; কাপাসিয়া, গাজীপুর | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী গ্রেফতার
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আবুল হোসেন (৬৯)। তিনি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার কাড়িহাতা গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে সিআইডির একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রটির সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১২ জুন ভুক্তভোগীকে ইতালির বদলে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মানবপাচারকারী চক্রের সহযোগীরা তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী সুযোগ বুঝে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে এবং ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে কাপাসিয়ার কাড়িহাতা গ্রাম থেকে আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার মিরপুর (ডিএমপি) থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরও একটি মামলা রয়েছে, যেখানেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি। গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে