ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদ এখন কচুরিপানায় প্রায় ঢেকে গেছে। এতে আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জন ও নৌযান চলাচল নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
কুমার নদের দুই তীরে শৈলকুপা শহর ও আশপাশের এলাকার অন্তত ৩০০ হিন্দু পরিবারের বসবাস। প্রতিবছর এখানে ব্যাপক আয়োজনে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। শৈলকুপার সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের একমাত্র স্থান এই কুমার নদ। স্থানীয়রা জানান, আগের বছরগুলোতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন নদীর ডোলভিটা থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো। হাজারো মানুষ নৌকায় করে বিসর্জন দেখতে আসতেন। প্রতিমা জোড়া দেওয়া ডাবল নৌকায়, আর পরিবারের সবাই সাধারণ নৌকায় দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কুমার নদের বিভিন্ন ঘাটে ঘুরে বেড়াতেন শত শত নৌকা। পরে নিজ নিজ ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হতো।
তবে এবার নদজুড়ে ব্যাপক কচুরিপানা জমে থাকায় নৌকা চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানার কারণে মশার উপদ্রবও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।এই ব্যাপারে সুশান্ত কুমার নামের এক ব্যক্তি জানান,কুমার নদে কচুরিপানায় যেভাবে নদ ভরে গেছে তা পরিষ্কার না করলে প্রতিমা বিসর্জন দিতে সমস্যা হবে। তবে সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবি, দুর্গাপূজার আগেই প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে কুমার নদ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করলে নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন ও নৌকায় উৎসব উপভোগ করা সম্ভব হবে। এই ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মাহফুজুর রহমান জানান দ্রুতই কুমার নদের কিছু অংশ থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হবে।