‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’ জিতে ২০ লাখ, গাড়ি ও ইউরোপ ভ্রমণ পেলেন অবিনাশ

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’ জিতে ২০ লাখ, গাড়ি ও ইউরোপ ভ্রমণ পেলেন অবিনাশ
ছবি: সংগ্রহীত

‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন টেলিভিশন অভিনেতা অবিনাশ মিশ্র। রোববার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে ঋত্বিক ধনজানি ও ওরহান আওয়াত্রামানি ওরফে অরিকে পেছনে ফেলে শিরোপা জেতেন তিনি। বিজয়ী হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি ২০ লাখ রুপি, একটি গাড়ি এবং ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন অবিনাশ। ফাইনালের সেরা তিন প্রতিযোগীকেই একটি করে বাইক দেওয়া হয়েছে।

রোহিত শেঠি সঞ্চালিত স্টান্টভিত্তিক এই রিয়েলিটি শোর শেষ টাস্কে সবচেয়ে কম সময়ে চ্যালেঞ্জ শেষ করেন অবিনাশ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঋত্বিক ও অরির সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানেই শেষ পর্যন্ত অবিনাশকে এগিয়ে দেন রোহিত শেঠি।

বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অবিনাশ। রোহিত শেঠিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তাঁকে সমর্থন জানাতে উপস্থিত ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ‘বিগ বস ১৮’-এর প্রতিযোগী ঈশা সিং। বিজয়ের পর তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে অবিনাশকে জড়িয়ে ধরেন।

অবিনাশের জন্য এই জয় বিশেষ হয়ে উঠেছে আরও একটি কারণে। প্রায় এক দশক ধরে টেলিভিশনে কাজ করলেও এর আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি তিনি। নিজের জীবনে এটিই প্রথম রিয়েলিটি শোয়ের বিজয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।

বিজয়ের পর অবিনাশ বলেন, টেলিভিশনে প্রায় এক দশকের পথচলায় তাঁর পরিচয়ের একটি বড় অংশ ছিল পর্দার ‘সুদর্শন ছেলে’ হিসেবে। এই পরিচয় তিনি উপভোগ করলেও দর্শক যেন তাঁর আরও অনেক দিক দেখতে পান, সেই ইচ্ছা ছিল তাঁর। ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি’ তাঁকে নিজের কাজের মাধ্যমে সেই পরিচয় তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নিজেকে পরীক্ষা করতেই এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অবিনাশ। তাঁর ভাষায়, পুরো যাত্রাটি ছিল মানসিকভাবে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার মতো। শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হলেও ভয় যখন সামনে আসে, তখন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন। অনুষ্ঠানে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন নিজেকেই অবাক করেছেন তিনি।

অবিনাশ বলেন, অনুষ্ঠানে এসে নিজেকে পরীক্ষা করার যে লক্ষ্য ছিল, সেটি পূরণ হয়েছে। তবে এখান থেকে তিনি ফিরছেন নিজের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তাঁর কাছে এটিই সবচেয়ে বড় জয়।

পুরো মৌসুমেই অবিনাশকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে দেখা গেছে। কোনো টাস্ক বাতিল না করে তিনি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যান। তিনি ‘সুইফট ইমিউনিটি জ্যাকেট’ও জিতেছিলেন। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিযোগীকে এলিমিনেশন বা নির্দিষ্ট কোনো টাস্ক থেকে বাঁচানোর সুযোগ পাওয়া যায়। তিনিই প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নেন।

ফাইনালে যাওয়ার পথে অবিনাশকে ফারহানা ভাট, অরি, করণ ওয়াহি ও ঋত্বিক ধনজানির মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে ট্রফি নিজের করে নেন তিনি।

চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঋত্বিক ধনজানি দ্বিতীয় এবং ওরহান আওয়াত্রামানি তৃতীয় হন। অরি নামেই বেশি পরিচিত ওরহানও পুরো মৌসুমে আলোচনায় ছিলেন।

রোহিত শেঠিও অবিনাশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই অবিনাশের মধ্যে ফাইনালে যাওয়ার মতো যোগ্যতা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শিরোপা জিতেছেন তিনি।

অভিনয়ে আসার আগে অবিনাশ মিশ্র ডিজে হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৬ সালে ‘শেঠজি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। পরের বছর ‘ইশকবাজ’-এ অভিনয় করেন। ২০১৮ সালের ‘মরিয়ম খান-রিপোর্টিং লাইভ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি।

তবে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ২০২২ সালে ‘নাথ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর। ধারাবাহিকটির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। এরপর সালমান খান সঞ্চালিত ‘বিগ বস ১৮’-এ অংশ নেন অবিনাশ এবং সেখানেও শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছান।

দীর্ঘদিন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হলেও অবিনাশের চাওয়া ছিল, দর্শক যেন তাঁকে শুধু চেহারা বা পর্দার উপস্থিতির জন্য নয়, তাঁর অভিনয় ও দক্ষতার জন্যও মনে রাখেন। ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর শিরোপা সেই প্রচেষ্টায় নতুন সাফল্য যোগ করল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে