সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাসাউড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আনারসের চাষ সম্প্রসারণ ও এটিকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসকইমাহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, হাসাউড়ার আনারসের জাত ও বৈশিষ্ট্য দেশের অন্যান্য এলাকার আনারসের তুলনায় ভিন্ন। এ আনারসকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক ও উদ্যোক্তারা। কৃষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আরব আলী ও চান মিয়া সর্দার। উদ্যোক্তা তৃষ্ণা আক্তার রুশনাও বক্তব্য দেন। সভার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন হাসাউড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বৈশাখী টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কর্ণবাবু দাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, “আমি সুনামগঞ্জে যোগদানের পর সাংবাদিক কর্ণবাবু দাস হাসাউড়ার আনারস সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেন। তাঁর আহ্বানে হাসাউড়া গ্রামে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আনারসচাষি ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন থেকেই এ ব্যতিক্রমী আনারস নিয়ে কিছু করার চিন্তা করছি। এখন হাসাউড়ার আনারসের জিআই স্বীকৃতির জন্য আমরা কাজ করছি।”
তিনি বলেন, হাসাউড়ার অনেক পরিবার আনারস চাষের ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাতের ওপর এ আনারসের উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে ফলনও বাড়ে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, হাসাউড়ার আনারস নিয়ে একটি প্রকল্প তৈরির জন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রকল্পটি তৈরি করা হবে। শুধু হাসাউড়া নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলার টিলা ও উঁচু জমিতেও এ জাতের আনারস চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় কৃষকরা আনারস পরিবহন ও বাজারজাতকরণে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, হাসাউড়া থেকে সুনামগঞ্জ শহরে আনারস নিয়ে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং বাজারে পৌঁছানোর আগেই আনারসের দাম বেড়ে যায়। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাগানেই কম দামে আনারস বিক্রি করে দেন।
কৃষকরা আরও বলেন, ধান ও সবজি চাষিরা যেমন কৃষিঋণ পান, আনারসচাষিরাও কৃষক। কিন্তু আনারস বাগানের জমির কাগজপত্র দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায় না। তাই সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা, আনারসের ফলন বৃদ্ধির জন্য বাগানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার দাবি জানান তারা। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভায় বক্তারা জানান, আগামী আনারস মৌসুমের আগেই পৌরসভাকে বিষয়টি জানানো হবে, যাতে হাসাউড়ার আনারস বিক্রেতারা ন্যূনতম খাজনার বিনিময়ে নির্ধারিত স্থানে আনারস বিক্রির সুযোগ পান। বাগানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কৃষকদের সমস্যা ও দাবিগুলো প্রস্তাবিত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।