বাজিতপুরে হাওরের বুকে একযুগ ধরে গড়ে উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার আলো:

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বাজিতপুরে হাওরের বুকে একযুগ ধরে গড়ে উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার আলো:

হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা বাহের বালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গরিব ছাত্ররা ঐ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ঐ বিদ্যালয়ের লেখাপড়া করার একমাত্র শিক্ষার্থীরা হলেন কেউ কেউ গরিব কৃষকের ছেলে, কেউ আবার নদীর তীরে জেলে সমাজের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করেন। খুব কষ্টে তারা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। শুকনো মৌসুমে একটু সুবিধা পায়। কিন্তু বর্ষাকালে তারা খেয়া নৌকা দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক খরচ গুনতে হয় এই গরিব অভিভাবকদের। তবুও তারা ফলাফলের দিকে পিছিয়ে নেই। এই উপজেলার কয়েকটি নামি-দামী বিদ্যালয়ের মধ্যে এস.এস.সি ফলাফলের দিকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। স্কুল হতে তাদের প্রতিদিন যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। দুটি নৌকা রয়েছে ৩০০ শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য। বাহের বালী ও আশেপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে এসে পড়েন। বর্ষাকালে চর্তুরদিকে পানিতে থই থই তিন তলা একটি ভবনটি। নিচতলা পুরোটাই ফাকা রয়েছে অধিকাংশ সময় এটি হাওরের পানিতে ডুবে থাকে। শুধু দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পাঠদান করে থাকেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত এই বাহের বালী এসইএসডিপি মডেল হাইস্কুল। প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাস চলে এখানে। স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করেছেন। এভাবেই হাওর অঞ্চলে পানি ঘেরা পরিবেশে দিনের পর দিন শিক্ষার আলো ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টির বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা বলেন, নৌকা ধরতে তাদের নাকি অনেক সময় চলে যায়। বাহের বালী, পুরাকান্দা, আইনারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী এই ৫টি গ্রামের ৩ শতাধিক ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করে আসছেন। তাদের নতুন সুযোগ খুলে গেছে। শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের ভবিষ্যৎ উজ্জল করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। রফিক উদ্দিন বলেন, স্কুল টা হওয়ায় বাজিতপুরে কোনো বিদ্যালয়ে যেতে হয় না। খরচ তাদের খুব কম পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন এসডিপি প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে এসে শেষ হয়। ২০১৩ সালের আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। এই সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় তারা শিক্ষার আলো পেয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ২০১৭ সালে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও ভূক্ত করা হয়। বাহের বালী স্কুলটি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এমপিও ভূক্ত স্বীকৃতি পায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিপন চন্দ্র দাস বলেন, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ৯ম-১০ম পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, সে সময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। যার জন্য স্কুলটি এমপিও ভূক্ত হয়নি। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে অন্তবর্তীকালিন সরকারের অধীনে নতুন করে  এমপিও ভূক্ত আবেদনের জন্য আহ্বান করা হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করেন। বর্তমানে এটি স্থগিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে