সাতক্ষীরা তালা উপজেলায় ১৯৮ টি মণ্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমা তৈরিতে সৌন্দর্য, চাকচিক্য, ভিন্নতা করতে উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রতিযোগিতা। খড়, কাদামাটি ও বাঁশের সাহায্যে তাদের নিজস্ব শৈল্পিক সৌন্দর্যের নিখুঁত হাতের ছোঁয়া লাগিয়ে চলছে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আকৃতিদান। দেবী দুর্গার সঙ্গে ধনের দেবী লক্ষ্ণী, জ্ঞানের দেবী সরস্বতী, গণেশ, অসুর, মহিষ, কার্তিক, সিংহের মৃন্ময়সহ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিমায় আনা হচ্ছে আধুনিকতার চমক। পঞ্জিকা বলছে, ২০২৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শুরু হবে ১৫ অক্টোবর । ১৫ অক্টোবর মহালয়ায় দেবীপক্ষ। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দুর্গাপূজা শুরু হয়ে চলবে ২১ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত। তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক নারায়ন মজুমদার জানান তালা উপজেলার ২টি থানার অধীন ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৯৮টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ভাস্কররা জানান, প্রতিমা তৈরিতে পৌরাণিক কাহিনীকে নানা আদলে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা চলছে। কারুকার্যতা শেষ হলে রং তুলির নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রকৃত রূপ তোলা হবে নাক, কান, চোখ, মুখ ইত্যাদি দিয়ে। তবে এই কাজে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক পর্যাপ্ত না হলেও দৃষ্টিনন্দন সুন্দর প্রতিমা তৈরি করতে মনের মাধুরী দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মৃনাল কান্তি রায় জানান পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সরকারিভাবে যে অনুদান আসে তা অতিদ্রুতই মণ্ডপ কমিটির কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এ বছর থানার প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পূজামণ্ডপগুলোয় সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত করে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে। এবারও পুলিশ সদস্য, র্যাব বাহিনীর সদস্য, আনসার ভিডিপিসহ গোয়েন্দা পুলিশের কঠোর নজর থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান তিনি।