দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা

এফএনএস (সৈয়দ জাহিদুজ্জামান; দিঘলিয়া, খুলনা) : | প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা

দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে গ্রাহক। দলিল লেখক ও গ্রহীতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত। ঘটনা ঘটেছে দিঘলিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, খুলনার দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা (ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ) ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  জমি রেজিস্ট্রির সময় জাল দাখিলার বিষয়টি শনাক্ত করেন দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তুপা বসু। এ ঘটনায় দলিল লেখক ও জমির গ্রহীতা জাকিরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাস গুপ্ত। 

এবিষয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, উক্ত জমির বিক্রেতা/ দাতা উভয়ই লাখোহাটি গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল গাজী গং এবং গ্রহীতা একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ জাকির হোসেন। জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে  ৫ শতাংশ। যার শ্রেনী উল্লেখ করা হয়েছে বিলান। উক্ত জমি ক্রয় বিক্রয় এবং রেজিস্ট্রির দায়িত্বে ছিলেন  দলিল লেখক মোড়ল মফিজুর রহমান। 

জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলাকালে দাখিলাটি যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে সাব রেজিস্ট্রার তুপা বসু বিষয়টি শনাক্ত করেন। এ সময় জাল দাখিলা ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটি জানার পর সাব-রেজিস্ট্রার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্তকে অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাব রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রার তুপা বসুর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জাল দাখিলার বিষয়টি তিনি রেজিস্ট্রির সময় ধরতে পেরেছেন। তার কাছে দলিল লেখক ও গ্রহীতা জাকির ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু  যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনি ব্যবস্থা  গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে ক্ষমা করা যাবে কিনা এবং ক্ষমা করার মত অপরাধ কিনা এটাই বিবেচ্য বিষয় এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বিজ্ঞমহল। 

অন্যদিকে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক মোড়ল মফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তিনি জালিয়াতির বিষয়টি অবগত নন। দাখিলা জাল হওয়ার বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার স্যার ধরেছেন। এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার আমাকে বিষয়টি জানালে আমি তাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।” তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে শুধু ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে, নাকি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এখন সেটিই দেখার বিষয়। এ ঘটনার ব্যাপারে উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতনমহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে