বাজিতপুর উপজেলাটি একটি পৌরসভা সহ ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় প্রায় ৪ লক্ষ লোকের বসবাস। যেখানে ডাক্তার থাকার কথা ২০ জন সেখানে মূলত ডাক্তার রয়েছে ৫-৬ জন। প্রতিদিন আউটডোরে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগীর বড় লাইন লেগে যায়। রোগীরা ডাক্তারদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৮ জন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ জন, শিশু রোগী, বৃদ্ধ রোগীরা বিভিন্ন ধরনের কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও ভর্তি হওয়ার পর স্যালাইন থেকে শুরু করে সব ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে গিয়ে তাদের সবই যেন শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালের সামনে কয়েকটি নামে মাত্র ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থাকলেও তাদের পরীক্ষার মান নিম্ন পর্যায়ে থাকার কারণে ডাক্তারগণ সঠিক চিকিৎসা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বাজিতপুরের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার স্থাপিত হয়েছে। ডাক্তাররা কমিশন বাণিজ্য করছে বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে গেলে সাধারণ রোগীরা প্যারাসিটামল ও কিছু ঔষধ ছাড়া বাকি ঔষধগুলো বাহির থেকে ক্রয় করতে হয়। অর্থপ্রেডিক্স, মেডিসিন বিভাগে গেলে একই অবস্থা। এছাড়াও প্রসূতি মায়েদের ঔষধপত্র সবই যেন এক অন্য জগতের উপায়ের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালটি। গরিব প্রসূতি মায়েরা তাদের সন্তান প্রসব করার জন্য হাসপাতালে যায় কিন্তু মোটা অংকের টাকা তাদেরকে গুণতে গিয়ে তারা সর্বশান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভর্তিরত রোগীদের খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে রোগীদের অভিযোগ। গত সরকারের আমলে এই হাসপাতালটি মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এখন এলাকাবাসীর দাবি, এই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ১০০ শয্যা হাসপাতালে পরিণত হলে তাদের উপকার হবে বলে অনেকে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। বাজিতপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প: প: ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার বলেন, ডাক্তার সংকট বহুদিন ধরে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাক্তার আসলে রোগীদের আর কোন কষ্ট হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।