প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেগাপ্লুত কন্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন হাবিবুর

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) : | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেগাপ্লুত কন্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন হাবিবুর

‘বাবা দিন মজুরীর কাজ করেই আমাকে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন। ছোট বেলা থেকেই আমার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। মুলতঃ এ কারনেই অভাব-অনটনের সংসারে তিন ভাই-বোনের মধ্যে আমি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। কঠোর প্ররিশ্রম করে সরকারি চাকুরীর প্রস্তুতি নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েও প্রথম পর্যায় নিয়োগ পত্র না পাওয়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়ি’।

‘পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্যারের আশ্বাস ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে নিয়োগ পত্র পাওয়ায় তাদের প্রতি শুধু কৃতজ্ঞতা নয়; আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে প্রাণ খুলে দোয়া করি’। আবেগ-আপ্লুত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা গ্রামের পেশায় দিনমজুর ফজলুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান। শুধু তিনি একা নন; তারমতো প্রথমে নিয়োগ পত্র না পাওয়া আরও ২৬ জনের মনের অবস্থা ছিল একই রকম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাায়, এ উপজেলায় ৫৮ জন নিয়োগ পত্র পেলেও যোগদান করেছেন ৫৪ জন। এরমধ্যে প্রথম পর্যায় সুপারিশকৃত ২৮ জনকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুপারিশকৃত ৩০ জন নিয়োগ পত্র পেলেও যোগদান করেছেন ২৬ জন। আগামী ১৮ অক্টোবর তাদেরকে পদায়ন হবে বলে জানাগেছে। ইতোমধ্যে গত ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর ৫৪ জনকে টানা পাঁচ দিন প্রশিক্ষণ শেষে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠদান কার্যক্রমে কাজ করছেন।

হাবিবুর রহমান জানান, ছোট বেলা হতেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। নুন আনতে পান্থা পুরানো পাঁচ জনের অভাবের সংসারে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। স্থানীয় ঝাঁপা মাদ্রাসা হতে ২০১২ সালে দাখিল ও ২০১৪ সালে আলিম উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন পূরন হয়নি। এম এম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অর্থনীতিতে ভর্তি হয়ে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় যথাক্রমে সিজিপিএ ৩.০২ এবং ৩.৩১ লাভ করি।

তিনি আটও বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও প্রথমে নিয়োগ পত্র না পেয়ে চরম হতাশ হই। পরদিন তার মতো নিয়োগ পত্র না পাওয়া অনেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়ার এক পর্যায় সেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসে সবাইকে নিয়োগ পত্র পাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পত্র পায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় ৫৮ জন নিয়োগ পত্র পেলেও যোগদানকারি ৫৪ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠদান করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে