মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রদূত, সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের পারিবারিক কবরস্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি গজারিয়া ইউনিয়নের কাজীপুরা গ্রামের ওই কবরস্থানে যান এবং ভাঙচুর হওয়া স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনকে প্রতারক হিসেবে আখ্যায়িত করে সংসদ সদস্য বলেন, 'তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে থানায় মামলা হয়েছে, আইনের মাধ্যমে তার বিচার হবে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে তিনবার কথা বলেছি; তিনি তাকে চেনেনও না। এই ব্যক্তি আসলে একজন ফ্রড। আমি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।' এ সময় তিনি কবরস্থানটির সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসহাক আলী, আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ইউপি প্রশাসক মনিরুজ্জামান, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুন সরদার, ফিরোজ আলম ও মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে, সাবেক রাষ্ট্রদূতের পারিবারিক কবরস্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, 'সোমবার রাতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।' উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে গজারিয়া ইউনিয়নের কাজীপুরা গ্রামে সাবেক রাষ্ট্রদূত, সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের পারিবারিক কবরস্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুইজারল্যান্ড প্রবাসী শাহাদাত হোসেন ও তার লোকজন সাবেক রাষ্ট্রদূত, সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের কবর ভাঙচুর এবং চারপাশে ঘিরে থাকা ৩ শতাংশ জায়গার সীমানা প্রাচীর ও স্টিলের বেড়া কেটে ফেলে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়।