আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নির্দ্ধারিত দামেন চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রী ও সরবরাহ সংকটের কারনে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপজেলার গ্যাস ব্যবহারকারীরা গ্যাসের সংকটে নাজেহাল হচ্ছে।
উপজেলার বুধহাটা, বড়দল, আশাশুনি, প্রতাপনগর, নাকতাড়া কালিবাড়ী, গোয়ালডাঙ্গা, কাদাকাটি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গ্যাস সিরিন্ডার বিক্রয় হয়। এসব বাজার থেকে গ্রামের বহু পরিবার গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করে ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া মিষ্টির দোকান, চা'র দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এর মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। নতুন দাম ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়। তবে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আবার কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রীর অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৬৩ থেকে ৪১৩ টাকা বেশি দামে কিংবা আরও বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অনেক দোকানে যারা ইতিপূর্বে বেশ সাড়ম্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করতেন তাদের অনেকে বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার তুলছেন না। এদিকে, এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এ ঘোষণার পর বাজারে গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবমিলে আশাশুনি উপজেলার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা হতাশা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। এব্যাপারে ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন সে দাবী ভোক্তাদের পক্ষ থেকে জোরালো ভাবে করা হয়েছে।