মায়ের কোলে শিশু কন্যাকে তুলে দিয়ে বিপাকে পুলিশ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
মায়ের কোলে শিশু কন্যাকে তুলে দিয়ে বিপাকে পুলিশ

দাম্পত্য কলহের কারনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের কারনে অনিশ্চয়তার দোলাচলে পড়ে মাত্র দুই বছর আট মাস বয়সের শিশু কন্যা হুমায়রা জান্নাত। বিচ্ছেদের পরে শিশুটিকে তার বাবা ও মা উভয়ের কাছে রাখতে চাওয়া নিয়ে তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরেন।

জানা গেছে, শিশু হুমায়রা জান্নাত দীর্ঘদিন তার বাবার কাছে থাকায় গর্ভধারীনি মা পপি খানম মেয়েকে নিজের কাছে ফিরে পেতে ব্যাকুল হয়ে পরেন। একাধিকবার চেষ্টা করেও মেয়েকে তিনি ফিরে পেতে ব্যর্থ হন। শিকার হন বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকির। এরইমধ্যে রাজমিস্ত্রি বাবার কাছে থাকা শিশুটি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে জেনে শিশুটির মা পপি খানক থানা পুলিশের দারস্থ হন।

বিনা চিকিৎসায় একটি শিশু মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, এমন লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতেই চরম বিপাকে পরেছেন বরিশালের বানারীপাড়া থানার ওসি এবং এসআইসহ সাতজন পুলিশ সদস্য। ওই শিশুটির রাজমিস্ত্রি বাবা জালিছ মাহমুদ থানার ওসি মজিবুর রহমান ও এসআই জাহিদসহ সাতজন পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সূত্রমতে, বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইর পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় শিশুটির বাবা বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা জালিছ মাহমুদ অভিযোগ করেন, গত সোমবার বেলা এগারোটার দিকে মামলার প্রধান আসামি ওসির নির্দেশে দুই নাম্বার আসামি থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হোসেন চার‑পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিয়ে তাকে (জালিছ মাহমুদ) আটক করতে যায়। এসময় তাকে গ্রামের বাড়ির সামনের রাস্তায় পেয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্য আসামি পুলিশ সদস্যরা জালিছ মাহমুদকে কিলঘুষি ও লাথি মেরে গুরুত্বর আহত করেন। এ সময় বাদীর (জালিছ) বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তাকে জোরপূর্বক আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘসময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশে তার শিশু কন্যাকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে বাদী থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার দিবাগত রাতে বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মামলায় আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। মানবিক কারনে দুই বছর আট মাস বয়সের শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাবার সঙ্গেও শিশুটির নির্বিঘ্ন যোগাযোগ থাকবে। যখনি চাইবেন বাবা তার মেয়েকে তার কাছে নিয়ে রাখতে পারবেন। ওসি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি সময়ে স্থানীয় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়ায় ওই চক্রের সদস্যদের প্ররোচনায় নিছক হয়রানী ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে