সিলেট সিটি করপোরেশনকে জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা আতাউর রহমান। নির্বাচিত হলে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল নাগরিক সেবা এবং দুর্নীতিমুক্ত নগর প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিলেট নগরের তালতলায় একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক সিলেটে এসে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এ জন্য তিনি দলের আমির ও দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে নাগরিকবান্ধব মেয়র হিসেবে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আতাউর রহমান বলেন, সিলেট তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠার নগর। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি যুক্ত রয়েছেন। সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠা, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পৃথক শিক্ষা বোর্ড, দক্ষিণ সুরমায় থানা ও ফায়ার সার্ভিস, চা গবেষণা কেন্দ্র এবং আধুনিক রেলস্টেশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ‘বঞ্চিত সিলেটবাসী’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও সিলেটের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বন্যা, শীত ও করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি ও তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান:
সিলেট নগরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে আতাউর রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, যানজট ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ স্থাপনা, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, খাল-ছড়া দখল এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নগরের অন্যতম সমস্যা।
নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, খাল ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং জলাধার দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দখলমুক্ত ফুটপাত, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
ডিজিটাল সেবা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি:
নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আতাউর রহমান বলেন, নাগরিক সেবা অনলাইনে সহজলভ্য করা, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ, অভিযোগ গ্রহণে মোবাইল অ্যাপ চালু, ই-টেন্ডার ব্যবস্থা কার্যকর এবং স্বাধীন নিরীক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সভার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নগরবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সুরমায় নান্দনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা:
নগরকে আরও নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, নতুন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান তৈরি, মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান। যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসীদের জন্য পৃথক সেবা ডেস্ক চালু এবং সিলেটের ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সিলেটকে নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুরমা নদীর ওপর টেমস নদীর আদলে দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি নগরের স্কুল ও মাদ্রাসায় রান্নাঘর স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। আতাউর রহমান বলেন, দলমত-নির্বিশেষে নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সিলেটকে শান্তিপূর্ণ, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।