ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হবেন না। সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের নাথপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বস্ত্র ও শারদীয় উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো ধর্মই অন্যায়, বৈষম্য কিংবা হিংসা-বিদ্বেষের শিক্ষা দেয় না। প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষা সত্য, ন্যায়, মানবতা ও সংযম। তাই নিজ নিজ ধর্মের নীতি-আদর্শ অনুসরণের পাশাপাশি অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যরে মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে। এ ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, নিরাপদে চলাফেরা এবং বৈষম্যহীনভাবে ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সীতাকুণ্ডের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। স্থানীয় শিল্পাঞ্চল ও উপকূলীয় শিল্পের বিকাশের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের বিষয়টি এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সীতাকুণ্ড ও পার্শ্ববর্তী কৈবল্যধামের ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঐতিহাসিক ও পবিত্র তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি পূজামণ্ডপে নারী, শিশু ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজ, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণ বাঁশবাড়ীয়া নাথপাড়া দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোজ কুমার নাথ। এতে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে শারদীয় উপহার ও নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়।