নওগাঁর মহাদেবপুরে গভীর রাতে মন্দিরে গিয়ে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করতে থাকায় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডল (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের হামিদপুর উত্তরপাড়া সার্বজনিন দূর্গামন্দিরে এঘটনা ঘটে। রোববার বিকেলে সরেজমিনে ওই মন্দিরে গেলে মন্দিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মদ্যপ অবস্থায় নতুন কুমার মন্ডল মন্দিরে এসে মাইক অপারেটরকে মাইকের সাউন্ড বাড়িয়ে দিতে বলে। মাইকের সাউন্ড সিস্টেমে সর্বোচ্চ ভলিউম দিলেও সে আরও জোরে মাইক বাজাতে নির্দেশ দেয়। এক পর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পকেট থেকে চাকু বের করে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। এতে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের দীপু কুমার, পলাশ কুমার ও রতন কুমার নামে তিনজন আহত হন। এদের মধ্যে দীপু কুমারের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি ওইগ্রামের বিপ্লব কুমারের ছেলে। এসময় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডলকে আটক করে মন্দির প্রাঙ্গনে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। তাকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন কুমারকে থানায় নিয়ে আসে। সে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের অনুকুল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। রোববার বিকেলে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের বাঁকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্ততি নেয়ার পরও কিভাবে মদ্যপ অবস্থায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতায়ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।