নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই

ঈশ্বরদীতে পদ্মায় চলছে নির্বিচারে ইলিশ শিকার

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ঈশ্বরদীতে পদ্মায় চলছে নির্বিচারে ইলিশ শিকার

পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা নদীতে গভীর রাতে চলছে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার। নিরাপত্তার কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাতে অভিযান পরিচালনা করছে না এই সুযোগে অসাধু জেলেরা গভীর রাতে পদ্মা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ফেলে অবাধে মা ইলিশ মাছ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে নৌ পুলিশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে অসাধু জেলেরা পদ্মায় নির্বিচারে ইলিশ মাছ শিকার করছেন।

সেই মা ইলিশ অত্যান্ত গোপনে পদ্মা পাড়েই ভ্রাম্যমাণ ভাবে বিক্রি করছেন তারা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা মাছ কিনতে ভিড় করছেন নদী পাড়ের বিভিন্ন এলাকায়। এতে চলতি মৌসুমে ইলিশের প্রজনন প্রভাবিত হতে পারেবেশ ভাল ভাবেই এমনটা আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অসাধু জেলেদের হামলার ভয়ে মৎস্য কর্মকর্তারাও বার বার অভিযানে যেতে অনেকটাই অসহায় বোধ করছেন। তবে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু জেলেদের নিয়মিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার থেমে নেই। অসাধু জেলেরা দিনরাত পদ্মায় জাল ফেলছে এবং নদী পাড়েই  বসিয়েছেন ইলিশের 'হাট'। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশের বিক্রি। সূত্র জানায়, দিনের বেলায় নয়, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হয় ইলিশ মাছ শিকার। যা চলে ভোর পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীর পাকশী হঠাৎ পাড়া, সাঁড়া ৫নং ঘাট, আরামবাড়িয়া শশ্মশান ঘাট, শেখের চক ঘাট, আরামবাড়িয়া স্কুল ঘাট ও ৩ কুমোরপুর ঘাটসহ নদীর এপার-ওপারের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনই অস্থায়ী হাট বসছে মা ইলিশের। অনেক জেলে গোপনে নিজ বাড়িতে মা ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন। তবে জেলেরা বলছেন, সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা জানান, 'সংসারে অভাব-অনটন থাকায় আমরা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ শিকার করছি। সরকারি ভাবে আমাদের তেমন কোনো সহযোগীতা নেই, মাত্র ২৫ কেজি করে চাউল দিয়েই দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। এমনকি তালিকায় আমাদের সবার নামও নেই।' তাই বাধ্য হয়েই মা ইলিশ মাছ শিকার করছি। অন্যদিকে ক্রেতারা পদ্মার টাটকা ইলিশ পেতে উল্লেখিত স্থানে ভিড় করছেন। সাজিদ আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন তাজা ইলিশ বাজারে পাওয়া যায় না। পদ্মার পাড়ে টাটকা ইলিশ পাওয়া যায়, এমন খবর শুনে এসেছি। তবে দাম চড়া, তাই সীমিত পরিমাণে নিচ্ছি।' আরেক ক্রেতা সাকিবুল হাসান জানান, '৫ কেজি ইলিশ কিনেছি। আকারে ছোট হলেও মাছ গুলো বেশ ভালো। সকাল থেকেই এখানে মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনায় এখানেও অনেকটা ভয় পাচ্ছেন দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তারা। অনেকটা সতর্ক অবস্থা বজায় রেখেই অভিযান পরিচালনা করছেন কর্মকর্তারা। জেলেদের হামলার ভয়ে মৎস্য কর্মকর্তারাও অভিযানে যেতে অনেকটা অসহায়।

ঈশ্বরদীর সিনিয়র মৎস্য কর্র্মমকর্তা শাম্মী শিরিন বলেন, দিনের বেলা নয়, গভীর রাতে কিছু অসাধু জেলে পদ্মায় কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ মাছ শিকার করছে। তাছাড়া তারা 'পদ্মার চরের মধ্যে লুকিয়ে থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরে বিক্রি করছে। তাদের লোকজন বেশি হওয়ায় আমাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সতর্ক থেকেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, 'মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অসাধু জেলে ও ব্যবসায়িনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলবে। প্রসঙ্গত, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার সারাদেশে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে