সুবিদবাজারে সম্পত্তি দখল ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুই প্রবাসীর

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
সুবিদবাজারে সম্পত্তি দখল ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুই প্রবাসীর

সিলেট নগরের সুবিদবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভাই ও এক বোন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীরা হলেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাজিন ইসলাম চৌধুরী। তাঁরা তাঁদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে এহসানুল ও তাজিন জানান, তাঁদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি মারা যান। ২০২২ সালের ২৮ মার্চ নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী, সিলেটের সুবিদবাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের ভবনের অর্ধেক এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের জমির অর্ধেক তাঁদের প্রাপ্য। তবে খতিয়ান নম্বর ২০৩৬৫ ও ২০৩৬৮-এর আওতাধীন জমি, কমিউনিটি সেন্টার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেওয়া চারতলা ভবন তাঁদের ভাই, মা ও তাঁদের সহযোগীরা দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী, মাসুক মিয়া, নওশেবা ফারাহ তুনা ও বুলবুল নাহার চৌধুরী তাঁদের অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। ওই দলিল ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সুবিদবাজার শাখার ভাড়া থেকে তাঁদের প্রাপ্য আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

দলিলটি তৈরির সময় তাঁরা দুজনই দেশের বাইরে ছিলেন উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা বলেন, তাঁদের পাসপোর্টের ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোতোয়ালী সি.আর. মামলা নম্বর ৪৯৭/২০২৬ দায়ের করেছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিলেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ ও স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুেলট জেনারেলের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা প্রত্যাহারের ঘোষণাপত্র সম্পাদন করেছেন বলেও জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট সদর উপজেলার নালিয়া আঙ্গারুয়া মৌজার প্রায় ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক বাড়ি দখলে রাখারও অভিযোগ করেন এহসানুল ও তাজিন। তাঁদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ৭১/২০১০ নম্বরের একটি অছিয়তনামার কার্যকারিতা গত ৪ অক্টোবর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে।


এহসানুল ও তাজিন জানান, ২০২৫ সালে দেশে ফিরে পৈতৃক সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরোধ বাড়তে থাকে। গত ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও বুলবুল নাহার চৌধুরী ফোনে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


এ ছাড়া বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, ইন্টারপোলের পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ভয় দেখিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন দুই প্রবাসী। এসব ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং পৈতৃক সম্পত্তি প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এহসানুল ও তাজিন। দেশে তাঁদের অনুপস্থিতিতে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তাঁরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে