ঢাকায় ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযান, আটক ৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
ঢাকায় ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযান, আটক ৮৪

রাজধানীর ক্ষিলক্ষেত থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জাহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ। তাঁদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিকও রয়েছেন। ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার রাতে বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেলেও কয়েকটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান দুপুর পর্যন্ত চলে। ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন ও পার্টি আয়োজনের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, আইস, সিসা, কুশ ও বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, কনডম ও কয়েকটি গাড়ি জব্দের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে আয়োজিত পার্টি থেকে পাওয়া অর্থের ৭০ শতাংশ পেতেন বাড়ির মালিক আবদুল্লাহ আল জাহির এবং বাকি ৩০ শতাংশ পেতেন তাঁর কর্মীরা। বাড়িটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘হোস্ট’ ও ‘কো-হোস্ট’ ব্যবস্থা ছিল বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছে।

বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে হোস্ট ও কো-হোস্টের ভূমিকা কী ছিল এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহির জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িটি এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলার প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত ছিল। বাড়ির প্রায় দুই কাঠার উঠান জন্মদিন, গায়েহলুদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো।

তাঁর দাবি, ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন নির্ধারণ করা ছিল। অবৈধ কার্যক্রম, মাদক ও মদ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল এবং ভাড়াটেদের এসব বিষয়ে সতর্ক করা হতো। নিয়ম ভাঙলে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধানও ছিল বলে একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ির মালিকের বক্তব্য, ভাড়াটেরা গোপনে কোনো অপরাধ করলে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর কতটা বর্তাবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য জানার পর তাঁকে আর বাড়ি ভাড়া না দেওয়া, কালো তালিকাভুক্ত করা কিংবা বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহিরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বাড়িটি ভাড়া দেওয়া, সেখানে আয়োজিত পার্টির কার্যক্রম এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে