প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিবেন আনন্দঘন মুহূর্ত। এরই মধ্যে একজনের হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেল মোবাইল ফোন। আর সেই ফোনটি নিজেই মাটি থেকে তুলে ওই ব্যক্তির হাতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুরবাসীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক আচরণ উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি কাড়ে।
রংপুরে কর্মসূচিতে যোগ দিতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে বাসযোগে রংপুরে যাওয়ার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে থামেন তিনি। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের কলেজের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের কথা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু উপহারও দেন তিনি।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তুলতে গিয়ে এক ব্যক্তির হাত থেকে মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিচু হয়ে ফোনটি তুলে তার হাতে ফিরিয়ে দেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা একজন মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ উপস্থিত সকলের মধ্যে আনন্দ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন বড় একটি বার্তা। মানুষের প্রতি সম্মান ও আন্তরিকতা প্রকাশে পদ-পদবি কোনো বাধা নয়। মানুষের সঙ্গে তাঁর এই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সৈয়দপুরবাসীর অনেকে মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনা, সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া এবং সামান্য একটি ঘটনায়ও ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসা একজন জনপ্রতিনিধির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সৈয়দপুরবাসীর প্রত্যাশা,ক্ষমতার দূরত্ব নয় মানুষের সঙ্গে এমন আন্তরিক সম্পর্কই হয়ে উঠুক নেতৃত্বের পরিচয়।
মাটি থেকে মোবাইল ফোন তুলে ওই ব্যক্তির হাতে দেয়ার দৃশ্যটি নজর কাড়ে অনেকের। তাদের মধ্যে সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর,৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ি আক্তার হোসেন ফেকুও একজন। তিনি বলেন,এমন প্রধানমন্ত্রী আমাদের বার বার প্রয়োজন। কারণ বিশ্বের ইতিহাসে এমন বিরল ঘটনা আগে কোন দেশে হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর দীর্ঘায়ু কামনা করি।