চাঁদপুরে প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
চাঁদপুরে প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মেঘনার দুর্গম চরে সরকারি খাসজমিসহ প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে ৫০টির মতো পুকুর ও ঝিল কাটার অভিযোগে বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ​বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উপস্থিতিতে এ যৌথ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানকালে একটি মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু) জব্দ করা হয় এবং দখলিকৃত ঝিলে চাষ করা মাছ মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়।স্থানীয় ভুক্তভোগী ও কৃষকদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী ভূখোর চক্র দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি খাসজমিসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। তারা চাষযোগ্য জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে এবং মাছ চাষের নামে ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় ঝিল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে। এতে জমি হারানো প্রান্তিক কৃষকেরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হতো। ​জমি হারানো ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী ও ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, "এই চরগুলোতে আমাদের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিত সোনালী ফসল ফলাতেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চক্রটি ২২ একর পৈতৃক জমিসহ পুরো চরের মাটি কেটে খানাখন্দে পরিণত করেছে। প্রতিবাদ করলে জোটে শারীরিক নির্যাতন।"অভিযানের বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা জানান, "মেঘনার ওপারে প্রায় ৪০০ একর জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলছিল। এলাকাটি দুর্গম ও নদী উত্তাল থাকায় প্রায়ই অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বেও আমরা অন্তত ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু ধ্বংস করেছি, কিন্তু চক্রটি বারবার ফিরে আসে। এই চক্রটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।"উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, "নদীর ওপার থেকে এসে একটি চক্র আমাদের আবাদি ও সরকারি জমি দখল করে ধ্বংস করছে। এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা পরিকল্পনা করছি, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে চরের এই জমিগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়ার। এছাড়া এই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বিষয়টিও আমরা সক্রিয় বিবেচনায় রাখছি।"অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে