বনবিভাগের অবহেলা টেংরাগিরি ইকোপার্কের হরিণ উধাও

এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) :
| আপডেট: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম | প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
বনবিভাগের অবহেলা টেংরাগিরি ইকোপার্কের হরিণ উধাও

বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি ইকোপার্ক-ম্যানগ্রোভ বন যা ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ নামে পরিচিত। প্রায় দেড় যুগ আগে আলাদা আলাদা বেস্টুনীতে ২টি কুমির, অনেকগুলো শুকর, চিতা বাঘ ও ১৪ টি হরিণসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী নিয়ে যাত্রা শুরু করে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র এই টেংরাগিরি ইকোপার্ক। শুভ সন্ধ্যা, টেংরাগিরি ইকোপার্ক ও দক্ষিনাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ পিকনিক স্পট গৈয়মতলাকে নিয়ে সরকার কুয়াকাটাকে পর্যটন জোন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্তায় এই টেংরাগিরি ইকোপার্কের ভিতরের হরিনের বেস্টুনী থেকে দিন দিন উধাও হয়ে যাচ্ছে ১১টি হরিন। এখন মাত্র ৩ টি হরিণের দেখা মিলছে এ বেস্টুনীতে। একের পর এক হরিণ উধাও হয়ে গেলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই বনবিভাগের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে ‘ইকো-ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠে ‘টেংরাগিরি ইকোপার্ক’। প্রতিষ্ঠাকালে ১৪ টি হরিণসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সমারোহ ছিল এই পার্কটিতে। বনের সৌন্দর্য আর হরিণ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমাতেন পর্যটকরা। তবে সময়ের পরিক্রমায় ম্লান হতে বসেছে ইকোপার্কটির সেই চেনা রূপ। চালুর সময় ১৪ টি হরিণ থাকলেও অযত্ন আর অবহেলায় একের পর এক গায়েব হয়ে সেই সংখ্যা এখন নেমে এসেছে মাত্র তিনটিতে। ভেঙে পড়েছে হরিণের নিরাপত্তা বেষ্টনীও। স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিণের খাদ্য সংকট, বনবিভাগের তদারকির অভাব ও চোরা শিকারিদের নজরদারিতে না আনার কারণেই একের পর এক হরিণ হারিয়ে গেছে। এতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রটি । ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি এর আগেও টেংরাগিরি ইকোপার্কে এসেছি। তখন হরিণের অবাধ বিচরণ দেখে মন ভরে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। সারাদিন অপেক্ষা করেও একটি হরিণেরও দেখা মিলল না। পার্কের ভেতরে বেষ্টনীগুলো ভাঙাচোরা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্যের প্রতি কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা ও উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম অমি বলেন, “একসময় টেংরাগিরি ইকোপার্ক পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকত। তাদের মূল আকর্ষণই ছিল বনের হরিণ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখন পার্কে হরিণের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হরিণের সুরক্ষায় নির্মিত বেষ্টনীটিও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। বন বিভাগের দায়িত্বহীনতার কারণেই দিন দিন হরিণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে পর্যটকরা এই ইকোপার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা পর্যটন খাতের জন্য হুমকি।” তালতলী রেঞ্জের ছকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল বলেন, “বেষ্টনী ভেঙে পড়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত পার্ক সংস্কার করে বন্যপ্রাণীগুলো রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে পার্কে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে