আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে

লহ্মী পূজার দাওয়াতে এসে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরণ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
লহ্মী পূজার দাওয়াতে এসে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরণ

বরিশালের গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব ও ছাত্রলীগের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের পরিবারের সদস্যদের দাবী তারা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায় লহ্মী পূজার দাওয়াতে এসেছিলো। আটককৃতরা হলো-কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত সাবেক জিএস মহিবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার ও পৌর ছাত্রলীগের সদস্য সজিব সরদার। এরমধ্যে পলাশ হাওলাদার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানিয়েছেন, আমাদের বাড়িতে লহ্মী পূজার অনুষ্ঠান চলছিলো। ওই অনুষ্ঠানে আমার কিছু শোভাকাঙ্খীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে বিএনপির কতিপয় কর্মী-সমর্থক আমাদের বাড়িতে এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে লহ্মী পূজার দাওয়াতে আসা ছয়জনসহ আমার ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃতসহ এজাহারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সন্টু ভূঁইয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইকতিয়ার হাওলাদার, ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা, ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মনির মীর, মেহেদী আকনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আসন্ন ডিসেম্বর মাসে তাদের দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করার লক্ষে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, আটককৃতদের উল্লেখিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে