সংসার, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অনন্য প্রীতি রাণী সাহার নিজ বাসায় সবুজের সমারোহ

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
সংসার, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অনন্য প্রীতি রাণী সাহার নিজ বাসায় সবুজের সমারোহ

সংসার সামলানো, সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, সংস্কৃতিচর্চা এবং সমাজসেবায় অবদান-সব ক্ষেত্রেই নিজস্ব দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন প্রীতি রাণী সাহা। একজন আদর্শ গৃহিণী, সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজসেবিকা হিসেবে নিজ ভালোবাসা, যত্ন ও সৃজনশীলতায় তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সুন্দর পরিবার। একই সঙ্গে গাছপালার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে নিজ বাসভবনকে সাজিয়েছেন নানা জাতের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের সবুজ সমারোহে। চাঁদপুর শহরের  পুরান বাজার লোহারপুল পৌর প্রভাতী মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তিনি। প্রীতি রাণী সাহার বাসায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজের নান্দনিক আয়োজন। বাড়ির প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বারান্দা, শোবার ঘর, খাবার ঘর এবং অতিথিকক্ষ-প্রতিটি কোণেই যত্নের সঙ্গে সাজানো হয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। ফুলগাছের নান্দনিকতা, ফলগাছের সম্ভাবনা আর ঔষধি গাছের উপযোগিতা মিলিয়ে তাঁর পুরো গৃহটি যেন হয়ে উঠেছে এক টুকরো সবুজ বাগান। ব্যস্ত সাংসারিক জীবনের মধ্যেও পরম মমতায় গাছের পরিচর্যা করা তাঁর গভীর প্রকৃতিপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ তাঁর সংগ্রহের বাগানে রয়েছে লাল জবা, মানি প্ল্যান্ট, ড্রাসিনা, স্নেক প্ল্যান্ট, ক্রোটন, ইউফোরবিয়া, কোরাল ক্যাকটাস, অ্যাগলোনেমা, স্পাইডার প্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট ও বিভিন্ন জাতের পাতাবাহার। বারান্দার গ্রিলে ঝুলছে লতানো মানি প্ল্যান্ট, টবে শোভা পাচ্ছে হলুদ-সবুজ-লাল পাতার ক্রোটন, আর নীল টবে দৃষ্টিনন্দন ড্রাসিনা। স্নেক প্ল্যান্টের তলোয়ার আকৃতির পাতা এবং ছোট ছোট টবে রাখা কোরাল ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। এছাড়া সাদা টবে সবুজ-লালচে পাতার অ্যাগলোনেমা এবং সাদা-সবুজ ডোরাকাটা স্পাইডার প্ল্যান্ট বারান্দার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ শুধুমাত্র গৃহের সৌন্দর্যবর্ধনই নয়, ঘরের পরিবেশকে সজীব রাখার পাশাপাশি গাছপালার প্রতি এই ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বার্তাও দিচ্ছেন। অল্প জায়গাকেও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সবুজের পরিসর তৈরি করা যায়-তার এক দারুণ উদাহরণ তাঁর এই উদ্যোগ। প্রীতি রাণী সাহার স্বামী গোপাল চন্দ্র সাহা একজন ব্যবসায়ি, রোটারিয়ান, সমাজসেবক এবং চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক। স্বামীর সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রীতি রাণী সাহা সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠা ও মমতার সঙ্গে পালন করছেন। এই দম্পতির পারিবারিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য-সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। তাঁদের জ্যেষ্ঠ কন্যা সুতপা সাহা স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) সম্পন্ন করে চাকরির পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, কনিষ্ঠ পুত্র সুহৃদ সাহা মেধার স্বাক্ষর রেখে বৃত্তি লাভ করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ  অধ্যয়ন করছেন। সন্তানদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনে প্রীতি রাণী সাহার আন্তরিক অবদান তাঁদের পারিবারিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

**স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতিচর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন**

গৃহস্থালির কাজের বাইরেও সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রীতি রাণী সাহার রয়েছে সক্রিয় পদচারণা। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি স্বকণ্ঠে গান পরিবেশন করে তিনি সুধীজনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর এই সংস্কৃতিচর্চা ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা তাঁকে পরিবার ও পরিচিত মহলে এক শ্রদ্ধাভাজন এক নারীতে পরিণত করেছে।

**সমাজসেবায় নিষ্ঠা ও মানবিকতা**

প্রীতি রাণী সাহার কর্মপরিধি কেবল পরিবার ও সংস্কৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক সংগঠন ‘ইনার হুইল ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রাল’-এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়।পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ অভিযানসহ নানা সামাজিক উদ্যোগে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। গাছের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতাই তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমান নগরজীবনে ভবনের বারান্দা কিংবা বাসায় গাছ লাগানোর প্রবণতা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রীতি রাণী সাহার এই প্রকৃতিপ্রেমী উদ্যোগ চাঁদপুর  শহরবাসীকে নিজ নিজ বাসা, বারান্দা কিংবা ছাদে ছোট পরিসরে হলেও বাগান গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে। সংসার, সংস্কৃতিচর্চা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবার সমন্বয়ে প্রীতি রাণী সাহা আজ সমাজের এক অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাময়ী নারী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে