আখতার হোসেন

সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন

আইজিপির বক্তব্যের জবাবদিহি দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী সংসদে না তোলার আহ্বান

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন সরকারের প্রস্তুতি ও সম্মতি রয়েছে বলেই, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। আইজিপির বক্তব্যের জন্য তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। সভায় সরকারের সংস্কার কার্যক্রম, সাইবার সুরক্ষা আইন, নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আখতার হোসেন বলেন, বাহিনীগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে চলে। সরকারের সঙ্গে ক্রসফায়ার নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা না হলে আইজিপির বক্তব্যে এমন প্রসঙ্গ আসত না বলে মনে করেন তিনি।

আইজিপির বক্তব্যকে রূপক অর্থে বলা হয়েছে, এমন ব্যাখ্যারও সমালোচনা করেন এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর প্রশ্ন, এ ধরনের বক্তব্যকে রূপক বলা হলে সেটি কেমন রূপকথা হয়? তিনি বলেন, “আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন, এটিকে সরকারের বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে।” এ বক্তব্যের জন্য আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার নাগরিকদের সুরক্ষার চেয়ে নিজেদের সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের বক্তব্যের বাইরে অন্য তথ্য প্রচারের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার সাইবার সুরক্ষার নামে এমন আইন করতে চাইছে, যাতে তাদের পছন্দের তথ্যই প্রচারিত হয়। এ ধরনের প্রবণতাকে ফ্যাসিবাদী ও উত্তর কোরিয়ার মডেলের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

সাইবার সুরক্ষা আইনসংক্রান্ত সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, এই সংশোধনীতে দেশের মঙ্গলের কোনো বিষয় নেই। বরং নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধের কথা বললেও সরকারের পক্ষ থেকে ছড়ানো কথিত গুজবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সরকারের বক্তব্যকে প্রশ্নাতীত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার কোনো বিষয়ে দাবি করলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নিতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহে দেরির ব্যাখ্যা এবং মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

সাথী আক্তারের মুক্তি দাবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে দেখার প্রবণতা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংস্কারের নামে তাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে সরকার সংস্কার কার্যক্রমের শুরুতেই সেই পথ অনুসরণ করছে।

আখতার হোসেনের দাবি, স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পথে সরকারের যেসব বাধা ছিল, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার আইন প্রণয়ন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির সমালোচনা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখতে চায়নি। অন্যদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেও নিজেদের পছন্দের লোকজন দিয়ে সেই সরকার গঠন করতে চায়।

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক পথকে আরেকটি স্বৈরাচারী পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে