সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল

সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল। দিন দিন বাড়ছে ওই বাহনের ব্যবহার। বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। ফলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের হিসাবে বিগত ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছে। আর বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের চলাচল, চালকদের একাংশের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে উলটো পথে চলা, সংকেত অমান্য, ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো এবং যানবাহনের ফাঁক গলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরো জটিল করে তুলছে পরিস্থিতি। পুলিশ, বিআরটিএ এবং সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। তার মধ্যে মে মাস পর্যন্ত ঢাকা মহানগরেই ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৪টি নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিলো। যদিও নিবন্ধিত সব মোটরসাইকেল প্রতিদিন সড়কে নামে না। আবার রাজধানীতে চলাচল করে ঢাকার বাইরে নিবন্ধিত অনেক মোটরসাইকেল। ফলে প্রতিদিন ঢাকার সড়কে প্রকৃতপক্ষে কতো মোটরসাইকেল চলাচল করছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই।

সূত্র জানায়, রাজধানীসহ সারাদেশে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর মোটরসাইকেল চালকদের অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। বিগত ২০২৫ সালে দেশে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭২ জন নিহত হয়। বিগত ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫৩৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী, যা মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই সময়ে ৫৯২ জন পথচারী নিহত হয়েছে। যা মোট প্রাণহানির ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাকি ২৫৬ জন ছিল বাস, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চালক ও আরোহী। রাজধানীতে রাতে ৫১৯ জন নিহত হয়েছে। যা মোট প্রাণহানির ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সকালে নিহত হয়েছে ২৫৮ জন। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ভারী পণ্যবাহী যান ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী যানবাহনের চলাচল, দীর্ঘ যানজটে চালকদের অধৈর্য আচরণ, ফুটপাত দখল এবং একই সড়কে ধীর ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। 

এদিকে এ প্রসঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। চালকদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ। তাদের বেপরোয়া চালনা নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ফেলছে। মূলত সড়ক পরিবহন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান। সরকারি কর্মকর্তা, সাধারণ নাগরিক কিংবা পুলিশ সদস্য কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনো পুলিশ সদস্য আইন অমান্য করলেও তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজধানীতে উলটো পথে চলা, ট্রাফিক সংকেত অমান্য, ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো এবং যানবাহনের ফাঁক গলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।